কলকাতা সংবাদদাতা:
শিক্ষকতা, সাহিত্যচর্চা ও সাংবাদিকতায় দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘ভাঙড় রত্ন স্মারক সম্মাননা-২০২৬’-এ ভূষিত হলেন শিক্ষক, কবি ও প্রাবন্ধিক মহম্মদ মফিজুল ইসলাম। ১৩ সেপ্টেম্বর রবিবার ভাঙড়ের পোলেরহাটে জনসেবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত রক্তদান শিবির ও সামাজিক কর্মসূচির অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
শিক্ষকতার পাশাপাশি সাহিত্য ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছেন মহম্মদ মফিজুল ইসলাম। ভাঙড়ের খামারাইট অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং পড়ুয়ার সংখ্যা বৃদ্ধিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিদ্যালয়ছুট শিশুদের শিক্ষার মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও তাঁর উদ্যোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
শিক্ষাক্ষেত্রে কাজের পাশাপাশি বাংলা ভাষা, সমাজ ও সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দেশে ও বিদেশে নিয়মিত লেখালেখি করেন তিনি। বিভিন্ন সংবাদপত্র ও পত্রিকায় তাঁর কবিতা, প্রবন্ধ, উত্তর সম্পাদকীয় এবং অন্যান্য সাহিত্যধর্মী রচনা প্রকাশিত হয়েছে। নিজের হাতে লেখা পত্রিকা ‘লাইম লাইট’-এর পরিকল্পনা, সম্পাদনা ও অলংকরণের সঙ্গেও তিনি যুক্ত। সাহিত্য ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ইতিমধ্যে চার শতাধিক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন এই শিক্ষক-সাহিত্যিক।
আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষকতা, সাহিত্যচর্চা, সাংবাদিকতা এবং সমাজসেবায় মহম্মদ মফিজুল ইসলামের বহুমুখী অবদানকে মূল্যায়ন করেই তাঁকে এ বছরের ‘ভাঙড় রত্ন’ সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হয়েছে। রবিবারের অনুষ্ঠানে সেই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে তাঁর হাতে স্মারক সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
সম্মাননা গ্রহণের পর মহম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, “এই সম্মাননার জন্য আমাকে বেছে নেওয়া হবে, তা সত্যিই ভাবিনি। ভাঙড়ের মাটিতে কাজ করার যে সুযোগ পেয়েছি, এই স্বীকৃতি তারই আনন্দ ও আবেগের। শিক্ষকতা, সাহিত্যচর্চা ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এই সম্মাননা সেই কাজের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিল। ভাঙড়ের মানুষের সঙ্গে এই আনন্দ ভাগ করে নিতে চাই।”
এদিনের অনুষ্ঠানে রক্তদান শিবিরের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতা শিবিরে অংশ নেন। মহিলা রক্তদাতাদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা নিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে মহম্মদ মফিজুল ইসলামের সম্মাননা প্রদান বিশেষ গুরুত্ব পায়।
শিক্ষকতা, সাহিত্যচর্চা ও সাংবাদিকতার দীর্ঘ পথচলায় এই স্বীকৃতি ভাঙড়ের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিসরে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেন মিদ্দের সঞ্চালনা বিশেষ মাত্রা যোগ করে।