• বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
সিংগাইর পৌরবাজারে মোবাইল কোর্টে ফার্মেসীকে জরিমানা পাবনায় কর্মরত অবস্থায় নিহত ১৩ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবার পেল ৮ লাখ টাকা করে অনুদান সিংগাইরে স্কুলছাত্রী মারিয়ার মৃত্যুর হত্যা মামলা: ময়নাতদন্তে আত্মহত্যা, জেল খাটলেন শিক্ষক ও সাংবাদিক যুক্তরাজ্যে বিশ্বনাথ ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় উপেক্ষা: মোহাম্মদপুরে পুনর্বাসনের নামে ২৮৮ পরিবারের সাথে চরম প্রতারণার অভিযোগ বলিবাজারে মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ল ১২ দোকান, ক্ষতি অর্ধকোটি টাকা কর্মস্থল ছেড়ে মধুপুরে ২৩ শিক্ষক: ছুটির বিধি লঙ্ঘন ও হাজিরায় গরমিল সিংগাইরে কামুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জাল ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ, এলাকায় তোলপাড়! তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ- শিক্ষামন্ত্রী গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান: ৮ ড্রেজার ধ্বংস

টানা বর্ষণে নাইক্যছড়ায় ভয়াবহ ভাঙন, ঝুঁকিতে ৪০ পরিবার

Reporter Name / ৭৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

চিরন বিকাশ দেওয়ান, রাঙ্গামাটি:

টানা ভারী বর্ষণে রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাইক্যছড়া পাড়ায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ছড়ার তীব্র স্রোতে পাহাড়, চাষযোগ্য জমি ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই এলাকার প্রায় ৪০টি পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে।

স্থানীয়রা জানান, সপ্তাহব্যাপী অব্যাহত বৃষ্টিপাতের ফলে নাইক্যছড়া পাড়ার পাশ দিয়ে প্রবাহিত ছড়ায় পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। মাত্র ৫ ফুট প্রস্থের ছোট এই ছড়ায় প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হলে দুই তীর ভাঙতে শুরু করে। পানির স্রোতে ছড়ার পাড়ের মাটি সরে গিয়ে আশপাশের পাহাড়ি ভূমি, কৃষিজমি এবং বসতভিটার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বর্তমানে ছড়ার পানি পাড়ার ভেতরে প্রবেশ করছে। বর্ষার পানি আরও বৃদ্ধি পেলে ছড়ার পাড় ধসে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অনেক পরিবার প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। রাতে ভারী বৃষ্টি হলে ভাঙনের ভয় আরও বেড়ে যায়।

নাইক্যছড়া পাড়ার বাসিন্দারা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করে আসছি। কিন্তু এবারের বর্ষায় ছড়ার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি ও জায়গাজমি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের একটাই দাবি—দ্রুত গ্যাবিয়ন ওয়াল নির্মাণ করে আমাদের বসতভিটা রক্ষা করা হোক।”

এলাকাবাসীর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৮০ ফুট দীর্ঘ গ্যাবিয়ন ওয়াল বা প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা প্রয়োজন। এর মধ্যে ছড়ার এক পাশে প্রায় ৫০ ফুট এবং অপর পাশে প্রায় ৩০ ফুট দেয়াল নির্মাণ করা হলে পানির স্রোতের চাপ কমবে এবং ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের মতে, ছড়ার দুই পাশে বসবাসকারী প্রায় ৪০টি পরিবারের মধ্যে শিশু, নারী ও বয়স্ক মানুষ রয়েছেন। যেকোনো বড় ধরনের ভাঙন হলে এসব পরিবারের জানমাল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী আরও বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার অপেক্ষা না করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এখনই প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতের বড় ক্ষতি থেকে নাইক্যছড়া পাড়ার মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

পার্বত্য এলাকার পাহাড়ি ছড়া ও নদীগুলোতে বর্ষাকালে পানির প্রবল স্রোতে প্রতিবছরই ভাঙনের ঘটনা ঘটে। তবে নাইক্যছড়া পাড়ার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নাইক্যছড়া পাড়াবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং গ্যাবিয়ন ওয়াল নির্মাণের মাধ্যমে তাদের বসতভিটা ও জীবন-জীবিকা নিরাপদ করবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd