মো. রকিবুল হাসান বিশ্বাস,
সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে:
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ৫৫ নং কামুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরা বেগমের বিরুদ্ধে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর জালকরণ ও সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, সহকারি শিক্ষক নাসরিন আক্তার গত মাসের ১৬ তারিখে বিদ্যালয় অনুউপস্থিত ছিলেন। তিনি অনুউপস্থিত থাকলেও হাজিরা খাতায় প্রধান শিক্ষক মনিরা বেগম নিজে স্বাক্ষর দিয়ে উপস্থিত দেখায়। পরবর্তীতে হাজিরা খাতায় এ ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেলে বিদ্যালয় জুড়ে চরম তোলপাড় ও এলাকার মানুষের মধ্যেও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক মনিরা বেগম দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে একচ্ছত্র দাপট ও স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে আসছেন। তিনি সহকারী শিক্ষকদের মতামতকে সর্বদা উপেক্ষা করেন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকেও কোনো তোয়াক্কা করেন না। ফলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
এদিকে,এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, নিজে জাল স্বাক্ষর ও অনিয়মের ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রধান শিক্ষক মনিরা বেগম প্রথমে কৌশল হিসেবে ৩দিনের ছুটি নেন। পরবর্তীতে ঘটনা সামাল দিতে ও দায় এড়াতে তিনি এক মাসের দীর্ঘ ছুটিতে চলে যান।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয়রা অবিলম্বে মনিরা বেগমের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে সহকারি শিক্ষক নাসরিন আক্তার কোন মন্তব্যে না করে অফিসে কাজের ব্যস্ততা দেখিয়ে লাইন কেটে দেন।
প্রধান শিক্ষক মনিরা বেগম এ ব্যাপারে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, এগুলি নিয়ে স্কুলে অনেক কিছু হয়ে গেছে,আপনে স্কুলে আসেন সাক্ষাতে কথা বলবো।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুলতানা আছমা খান জানান,বিষয়টি আমি অবগত নয়। তবে সে অপরাধ করেছে। আমি ভালোভাবে জেনে জানাচ্ছি।