মোঃ মোস্তাকিম বিল্লাহ, নীলফামারী প্রতিনিধি:
কৃষকের জন্য বরাদ্দ করা সার নিয়ে বাজারে সংকট ও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগের মধ্যেই নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা বাজারের দুটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কচুকাটা বাজারের দুটি গোডাউনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মোট ৭৯৪ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৪০ বস্তা ইউরিয়া, ১৯৮ বস্তা টিএসপি, ৪৯ বস্তা ডিএপি এবং ৫০৭ বস্তা এমওপি সার।
অভিযানটি পরিচালনা করেন নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেসার্স ভাই-ভাই ট্রেডার্স ও মেসার্স মাস্টার ট্রেডার্সের গোডাউনে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে মেসার্স ভাই-ভাই ট্রেডার্সের গোডাউন থেকে ৭৪৮ বস্তা এবং মেসার্স মাস্টার ট্রেডার্সের গোডাউন থেকে ৪৬ বস্তা সার জব্দ করা হয়। প্রশাসনের দাবি, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এসব সার মজুত করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় মেসার্স ভাই-ভাই ট্রেডার্সের মালিক মো. শহিদুল্লাহ ইসলাম জাদুকে ১০ হাজার টাকা এবং মেসার্স মাস্টার ট্রেডার্সের মালিক মো. শাহজাহানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে উভয়ের এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হলেও জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিক পরিশোধ করায় তাদের কারাদণ্ড কার্যকর হয়নি।
সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, কৃষকের জন্য বরাদ্দ করা সার অবৈধভাবে মজুত করে অধিক দামে বিক্রির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযান চালানো হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, বালাইনাশক বিক্রির লাইসেন্সের আড়ালে ওই ব্যবসায়ীরা চোরাই পথে সার সংগ্রহ করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছিলেন।
এদিকে, চলতি আমন মৌসুমে নীলফামারীর বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের কাছ থেকে সারের সংকট ও বাড়তি দামে সার কেনার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার পয়েন্টে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে অনেককে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, জব্দ করা সারগুলো ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দুটি গোডাউন সিলগালা করা হয়েছে।
কৃষি মৌসুমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সারের দাম বাড়ানো এবং অবৈধভাবে সার মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।