বিশেষ প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৪ (অভয়নগর-বাঘারপাড়া উপজেলা ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনে অংশ নিয়েছিলেন আট জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ৬ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারী অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
জামানত হারানোদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী বিএলডিপির চেয়ারম্যান এম নাজিম উদ্দিন আল আজাদ (স্বতন্ত্র), তার প্রাপ্ত ভোট ৭৯০। তিনি মোট আট জন প্রাথীর মধ্যে ষষ্ট স্থানে আছেন ।
৫১ দলের মধ্যে বাংলাদেশ কংগ্রেস সহ ৪২ দলের কোন প্রার্থী পাশ করেননি বেশীর ভাগ প্রার্থীর ভোট হাজারের নিচে।
তৃতীয় হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজিদ হোসাইন, তার প্রাপ্ত ভোট ১১ হাজার ৭ শ ৬৪।
চতুর্থ হয়েছেন জাতীয় পার্টির (এরশাদ) মো. জহুরুল হক, তার প্রাপ্ত ভোট ১ হাজার ৭২০। পঞ্চম হয়েছেন বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির প্রধান সুকৃতি কুমার মণ্ডল, তার প্রাপ্ত ভোট ১ হাজার ৪৬৭।
সপ্তম হয়েছেন খেলাফত মজলিসের মাওলানা আশেক এলাহী, তার প্রাপ্ত ভোট ২৯৬। অষ্টম হয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের মো. আবুল কালাম গাজী, তার প্রাপ্ত ভোট ২৫৩।
অভয়নগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শেখ তানভির জামান জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আইন অনুযায়ী কোনো আসনের নির্বাচনের প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগের চেয়েও কম ভোট পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের জামানত বাতিলের বিধান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে যশোর-৪ আসনে ৬ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে জানা গেছে, যশোর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের দুর্গে এই প্রথম নির্বাচিত হয়ে দখল করলেন (অভয়নগর-বাঘারপাড়া উপজেলা ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রসুল। তিনি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজি পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৯ ভোট। এ আসনে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫২৯ ভোটারের মধ্যে মোট প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ২৭ হাজার ৯৪৩। বাতিলকৃত ভোট ৫ হাজার ৯৮৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা ৭২ দশমিক ৪২ ভোট প্রদান করা হয়েছে। এই আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট দরকার ছিল ৪০ হাজার ৯৯৩। কিন্তু তারা প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দিন দিপু জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীরা প্রাপ্ত ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
৪২ দলের কেউ জেতেনি এবারের নির্বাচনে
দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল নির্বাচনে অংশ নেয়। তবে ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ৪২টির কোনো প্রার্থীই বিজয়ী হতে পারেননি। কেবল ৯টি দলের প্রার্থীরা সংসদে আসন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন।
বাংলাদেশ কংগ্রেস, ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পাটি (বিএসপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পাটি), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), বাংলাদেশ লেবার পাটি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), বাংলাদেশ জাতীয় পাটি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এলডিপি, জাতীয় পার্টি-জেপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, জাকের পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ।
এ ছাড়াও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ, ইসলামী ফ্রন্ট, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ,বিএমএল, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম, বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), জনতার দল, আমজনতার দল, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পাটি কোনো আসন পায়নি।