নিজস্ব প্রতিবেদক
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার পূর্ব ভবানীপুর গ্রামে এক বাকপ্রতিবন্ধী যুবক, তাঁর স্ত্রী ও চার মাসের দুগ্ধপোষ্য সন্তানের ওপর অন্যায় আচরণ এবং পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শ্বর্তমানে ওই পরিবারটি নিজ বাড়িতেই পরবাসীর মতো অত্যন্ত মানবেতর ও নিরাপত্তাহীন জীবনযাপন করছেন।
শনিবার বিকেলে জগন্নাথপুর বাজারস্থ একটি রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী গৃহবধূ মিনহা বেগম এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
মিনহা বেগম বলেন, ২০২৫ সালে পূর্ব ভবানীপুর গ্রামের আকিকুল হক ছুরত ও সাহারা বেগম দম্পতির বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে জাহানুল হকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের আগে শ্বশুরপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, প্রতিবন্ধী ছেলের নামে পর্যাপ্ত সহায়-সম্পত্তি ও ভরণপোষণ নিশ্চিত করবেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই সেই মধুর প্রতিশ্রুতি অমানবিক নির্যাতনে রূপ নেয়। মিনহার বড় বোন জুবিলী বেগমও ওই পরিবারের আরেক ছেলে ইতালি প্রবাসী শাহানুল হকের স্ত্রী ছিলেন, কিন্তু শ্বশুরবাড়ির সীমাহীন অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তিনি পিত্রালয়ে চলে যেতে বাধ্য হন।
মিনহা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমি যখন গর্ভবতী হই, তখন আমার শাশুড়ি ও শ্বশুর আমার বাকপ্রতিবন্ধী স্বামীর ওপর চাপ সৃষ্টি করেন আমাকে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দিতে। কিন্তু আমার স্বামী তাঁর স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা থেকে সেই অন্যায্য চাপ মেনে না নেওয়ায় আমাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়।” তিনি আরও জানান, সিলেটে সিজারের মাধ্যমে তাঁর কন্যাসন্তান জন্ম নিলেও শ্বশুরবাড়ি থেকে চিকিৎসার কোনো খরচ দেওয়া হয়নি। নিরুপায় হয়ে মিনহার অসহায় বৃদ্ধ বাবা তাঁর আয়ের একমাত্র অবলম্বন ব্যাটারিচালিত অটোবাইকটি (টমটম) বিক্রি করে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেন। বর্তমানে তাঁর বাবা দিনমজুর হিসেবে মাটি কেটে তাঁদের ভরণপোষণ করছেন।
অভিযোগ উঠেছে, সন্তান নিয়ে হাসপাতাল থেকে ফেরার পর তাদেরকে ঘরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় এবং ভাড়াটে লোক লাগিয়ে তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে শাশুড়ি সাহারা বেগম বাদী হয়ে আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন, যার ফলে নিরপরাধ বাকপ্রতিবন্ধী জাহানুল হককে জেল খাটতে হয়। মিনহা বেগম প্রশ্ন তোলেন, নিজের ঘরে নিজের আলমারি খোলা কি কখনও চুরি হতে পারে?
গৃহবধূর দাবি, বাড়িতে একঘরে অবস্থায় থাকার সুযোগে প্রতিবেশী কয়েকজন লম্পট তাঁর শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়, যার কোনো প্রতিকার শ্বশুরবাড়ি থেকে পাননি। এছাড়া বিদেশে অবস্থানরত ভাসুর শাহান ও ননদ ইমা নিয়মিত তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন এবং নতুন করে মামলা সাজানোর ষড়যন্ত্র করছেন। শাশুড়ি তাঁর চার মাসের দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে হত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অসহায় এই নারী জানান, থানায় অভিযোগ করেও তিনি কোনো প্রতিকার পাননি। তাঁর শ্বশুর আকিকুল হক ছুরত সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, পৈত্রিক সম্পত্তির কোনো ভাগ তাঁর বাকপ্রতিবন্ধী ছেলেকে দেওয়া হবে না।
এমতাবস্থায়, বাক প্রতিবন্ধী স্বামী, নিজের ও সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা এবং স্বামীর ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন মিনহা বেগম।