• রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

ইতিহাসের দর্পণে একাত্তর: আমাদের জাতীয় ঐক্যের অবিনাশী শিকড়

Reporter Name / ১৫৪ Time View
Update : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬

পলাশ মন্ডল আকাশ

নিবন্ধ:
ইতিহাস কোনোদিন মিথ্যে হয় না, সময় ভেদে একে আড়াল করাও অসম্ভব। আজ যারা একাত্তরের ত্যাগের মহিমাকে অস্বীকার করতে চায়, তাদের মনে করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন—আমাদের অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য নাম একাত্তর। আমাদের আজকের এই মুক্ত নিশ্বাস ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত আর ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে কেনা এক অমূল্য রক্তঋণ।

একাত্তরের সেই অগ্নিঝরা দিনগুলোর কথা স্মরণে আনলে আজও প্রতিটি বাঙালির ধমনীতে শিহরণ জাগে। স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম আর সাতই মার্চের সেই বজ্রকণ্ঠের ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল সাত কোটি মানুষের মুক্তির মূলমন্ত্র। তাঁর সেই মহাকাব্যিক তর্জনীর ইশারাতেই বাংলার আপামর জনতা মরণজয়ী সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার চূড়ান্ত সাহস পেয়েছিল। এটি এক অনস্বীকার্য ঐতিহাসিক সত্য।

একইভাবে, রণাঙ্গনের কঠিনতম মুহূর্তে সাবেক রাষ্ট্রপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় ধ্রুবতারার মতো উজ্জ্বল। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তাঁর সেই অকুতোভয় স্বাধীনতার ঘোষণা দিকভ্রান্ত জাতিকে লড়াইয়ের এক নতুন সঞ্জীবনী শক্তি জুগিয়েছিল। কেবল ঘোষণা দিয়েই নয়, সম্মুখ সমরে সরাসরি সেক্টর কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ করে তিনি বীরত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন বলেই আজ আমরা একটি স্বাধীন মানচিত্র ও পরিচয় পেয়েছি।

কিন্তু ইতিহাসের সেই অন্ধকার দিকটিও আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। রাজাকার, আল-বদর আর আল-শামসদের মতো ঘরের শত্রুরা যখন হানাদারদের দোসর হয়ে নিজ দেশের মানুষের বুকে ছুরি হেনেছিল, সেই ক্ষত আজও আমাদের কাঁদায়। তারা চেয়েছিল এই ভূখণ্ডকে মেধাশূন্য করতে, বাংলার মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করে একটি পরাধীন ও অন্ধকারাচ্ছন্ন জনপদ বানিয়ে রাখতে। পাকি হায়েনাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া—তাদের সেই চরম বিশ্বাসঘাতকতা ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। ৩০ লক্ষ প্রাণের বিসর্জন আর লক্ষ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বদলে পাওয়া এই স্বাধীনতা কি এতই ঠুনকো যে আমরা আজ তা বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতে দেব?

নতুন প্রজন্মের কাছে আমার বিনীত আহ্বান, তোমরা শিকড়কে চেনো, সত্য ইতিহাসকে জানো। একাত্তর কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, একাত্তর আমাদের সবার। এই মাটি কোনো দয়ার দান নয়, বরং অগণিত প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এক পবিত্র অধিকার। আসুন, সব সংকীর্ণতা ভুলে একাত্তরের সেই ঐক্যের চেতনাকে হৃদয়ে লালন করি। কারণ, একাত্তরের হাত ধরেই আমাদের চিরস্থায়ী পরিচয়।

লেখক:
পলাশ মন্ডল আকাশ
শ্যামনগর, সাতক্ষীরা, খুলনা।
মোবাইল: ০১৭৬০৬৩৪০৩৫
ইমেল: palashakash35@gmail.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd