• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় রুপি, বাংলাদেশি টাকা, মাদকদ্রব্য, মোটরসাইকেল, মোবাইলফোনসহ একজনকে  আটক করেছে বিজিবি কটিয়াদীতে জামায়াত নেতার ছেলের ওপর হামলার ঘটনায় ১ জন গ্রেফতার কাকিনায় ট্রাক-অটো মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ২ পূর্বধলায় শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, সেক্রেটারি নিলয় চক্রবর্তী পাঁচবিবি সীমান্তে মাদক বিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের সমাপনী অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৪২ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি নতুন কমিটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত সভাপতি খলিল, তরুণ সাংবাদিকদের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির পৃথক অভিযানে ইস্কাফসহ হেরোইন ও গাঁজা আটক পাঁচবিবির যমুনা নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত নেত্রকোণায় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ

কবিতাঃ শিকল ছেঁড়ার শব্দ

Reporter Name / ১০১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

লেখকঃ মানিক পাল

চিত্রাঙ্গদা ধনুক ধরেছিল, স্বয়ং রাজ্য শাসন করেছিল, 
‘কবে বিয়ে’– কেউ জিজ্ঞেস করেনি তাকে। 
আমার ভগিনী ত্রিশের চৌকাঠ পেরোলে 
প্রতিবেশিনীরা পঞ্জিকা খোলে, 
কুশীলবের মতো আওড়ায়–
‘আর কতকাল?’

গার্গী ব্রহ্মসভায় দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, 
অবিবাহিতা, অকুতোভয়, ঋষিদের চোখে চোখ রেখে। 
আজ গার্গীরা প্রশ্ন তুললে 
উত্তর মেলে না, মেলে উপাধি–
‘উদ্ধত’, ‘অহংকারী’, ‘নিশ্চয় কোনো গলদ’।

তোমরা কানাঘুষোয় সিদ্ধহস্ত, কোলাহলে পারঙ্গম, 
‘মেয়েটার বয়স বয়ে যায়’ বলে শোকসভা বসাও। 
অথচ ‘সুপাত্র কোথায়’ শুধালে
নিমেষে নিরুত্তর– ‘আমরা কী জানি, বাপু!’ 
উপদেশে দাতাকর্ণ, দায়িত্বে দীনদরিদ্র।

দ্রৌপদীর পঞ্চস্বামী সভামাঝে স্বীকৃত, 
কুন্তীর কুমারী-মাতৃত্ব মহাকাব্যে বন্দিত। 
আমি শুধু নিঃসঙ্গতাকে বরমাল্য দিতে চাই–
তাতেই তোমাদের শাস্ত্রের শিরা কাঁপে? 
কোন স্মৃতিতে লেখা আছে নারী মানেই পত্নী?

অহল্যাকে শিলা করেছিল ইন্দ্রের কামনা, 
আমাকে শিলা করো ‘অবিবাহিতা’ এই অপবাদে। 
আমি অহল্যা নই, প্রতীক্ষারতও নই। 
শাপমোচনের জন্য অবতারের পাদস্পর্শ লাগে না, 
আমার নিজের পদক্ষেপই যথেষ্ট প্রলয়।

শোনো হে সমাজপতি, শোনো পিতৃতন্ত্রের দ্বাররক্ষী: 
এই জরায়ু আমার সার্বভৌম রাষ্ট্র, 
এই পঞ্জিকা আমার নিজস্ব সংবিধান। 
পরিণয় হবে কি হবে না, 
মাতৃত্ব আসবে কি আসবে না, 
সঙ্গ নেব কি বৈরাগ্যই হবে ব্রত–
এই স্বাধীনতাপত্রে তোমাদের অনুস্বাক্ষর নিষ্প্রয়োজন।

তোমাদের বয়স-গণিত, তোমাদের মিথ্যা উদ্বেগ, 
তোমাদের ‘ভালোর জন্য বলছি’ নামক শৃঙ্খল–
সব প্রত্যাহার করো। 
আমার জীবন কোনো গণসভার প্রস্তাব নয় 
যে সংখ্যাগুরুর হস্তধ্বনিতে নির্ধারিত হবে।

আমি উচ্চারণ করি– না। 
তোমাদের বিবাহ-বিপণিতে না। 
তোমাদের বয়স-আতঙ্কে না। 
তোমাদের ওই লোকলজ্জার জেল আমার জন্য না।

আমার অস্তিত্ব, আমার আদেশ। 
আমার শরীর, আমার সিদ্ধান্ত। 
ফুলস্টপ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd