মোঃ আকতারুল ইসলাম আক্তার, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:
খেলার ছলে নদীর পানিতে নেমেছিল শিশুরা। কিন্তু সেই নদীই কেড়ে নিল তিনটি নিষ্পাপ প্রাণ। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল ও ভূল্লী উপজেলায় পৃথক ঘটনায় নদীর পানিতে ডুবে পাঁচ বছর বয়সী তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তেরনই নদী ও ভূল্লী নদীতে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। একদিনে তিন শিশুর মৃত্যুতে দুই এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে স্বজনদের বুক।
রাণীশংকৈলে নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
রাণীশংকৈল উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের জগদল বস্তি গ্রামে তেরনই নদীর পানিতে ডুবে এহেসান (৫) ও কাউসার (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত এহেসান ওই গ্রামের জাহিদ হাসানের ছেলে এবং কাউসার একই গ্রামের কালামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশের তেরনই নদীর তীরে খেলছিল এহেসান ও কাউসার। খেলার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তারা নদীর পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তাদের দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা নদীতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে দুই শিশুকে পানি থেকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তারা আর বেঁচে ছিল না।
রাণীশংকৈল থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই রহমতুল্লাহ রনি জানান, তেরনই নদীর পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিক তদন্তে সাঁতার না জানার কারণে পানিতে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভূল্লীতেও নদীর পানিতে ঝরল শিশুর প্রাণ
অন্যদিকে, একই দিন দুপুরে ভূল্লী উপজেলার শুকানপুখুরী ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া এলাকায় ভূল্লী নদীর সুইচ গেটে গোসল করতে গিয়ে হোসাইন আহমেদ (৫) নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে ওই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, হোসাইন তার বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির পাশের ভূল্লী নদীর সুইচ গেটে গোসল করতে যায়। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত সে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করেন। তবে প্রাণপণ চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ভূল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, নদীর পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
একদিনে তিন শিশুর মৃত্যু
ঠাকুরগাঁওয়ের দুই উপজেলায় একই দিনে নদীর পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে দুই পরিবারের স্বজনরা শোকে কাতর। তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
স্থানীয়রা বলছেন, নদী, খাল, পুকুর ও সুইচ গেটের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয়ের আশপাশে শিশুদের চলাচলের সময় অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকা জরুরি। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।