মোঃ আবু সাঈদ, স্টাফ রিপোর্টার
গাজীপুর মহানগরীকে মাদক ও অপরাধমুক্ত রাখার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে টঙ্গীর কুখ্যাত হাজী মাজার বস্তি এলাকায় এক বিশাল আকস্মিক ও যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। দীর্ঘ আট ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত এই চিরুনি অভিযানে বিপুল পরিমাণ হেরোইন, দেশীয় মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র, দেশি-বিদেশি নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মাদক সেবন ও কারবারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ ০৫ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ০২:০০ ঘটিকা থেকে শুরু হয়ে সকাল ১০:০০ ঘটিকা পর্যন্ত টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন হাজী মাজার বস্তি এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অপরাধীদের আস্তানা ও মাদকের গোপন স্পটগুলো ঘিরে ফেলে একযোগে তল্লাশি চালায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
অভিযানকালে বস্তির বিভিন্ন আস্তানা থেকে উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে:
মাদকদ্রব্য: আনুমানিক ২১৯ গ্রাম হেরোইন এবং প্রস্তুতকৃত ২১০০ পুড়িয়া হেরোইন (যার মোট ওজন প্রায় ১.৬ কেজি)।
নগদ অর্থ ও বৈদেশিক মুদ্রা: ২ লক্ষ ৬৪ হাজার ৫৬০ বাংলাদেশি টাকা এবং ২৮০ ওমানি রিয়াল।
মারাত্মক দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম: ১৫টি রামদা, ২টি সামুরাই, ১টি স্টিলের চাপাতি, ১০টি স্টিলের পাইপ এবং ১টি প্লাস্টিকের খেলনা পিস্তল।
প্রযুক্তি ও অন্যান্য মালামাল: ১টি টাকা গণনার মেশিন, ১টি প্যাকেজিং মেশিন এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির কাজে ব্যবহৃত ৩টি ডিভিআর (DVR)।
স্বর্ণালংকার: স্বর্ণ সদৃশ ৩টি চেইন, ৭টি আংটি ও ২টি ব্রেসলেট।
এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামসহ ২ জন মাদকাসক্তকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
এই বৃহৎ সাফল্য অর্জিত হয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানিত পুলিশ কমিশনার জনাব মোঃ ইসরাইল হাওলাদার মহোদয়ের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায়। অভিযান পরিচালনায় সরেজমিনে নেতৃত্ব দেন জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) জনাব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন।
অভিযানের সার্বিক বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, অপরাধীরা বস্তির ভেতরে সংঘবদ্ধ হয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিল—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। উদ্ধারকৃত প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও টাকা গণনার মেশিন থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এখানে অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে বড় আকারের মাদকের লেনদেন চলত।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে জিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (গাছা/টঙ্গী জোন), টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহ ডিবি (গোয়েন্দা বিভাগ), এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের চৌকস ফোর্সের বিপুলসংখ্যক সদস্য সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা, মাদকের মূল উপড়ে ফেলা এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কঠোর ও ঝটিকা অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের দমনে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন।