লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে দুই সন্তানের জননী শিরিন আক্তার শীলাকে (২৫) শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী শাহীন মিয়া তুষারের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে পাটগ্রাম থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত শাহীন ও তার বাবা-মা পালিয়ে যায়।
নিহত শিরিন পার্শ্ববর্তী হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পশ্চিম সারডুবি গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে।
থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের প্রধানবাড়ী এলাকার সহিদার রহমানের ছেলে শাহীনের সাথে প্রায় ৮ বছর আগে বিয়ে হয় শিরিনের। তাদের ৬ বছর বয়সী এক মেয়ে ও দেড় বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে।
সোমবার বিকেলে খেলা দেখতে যাওয়া নিয়ে শিরিনের সাথে শাহীনের তর্ক হয়। এক পর্যায়ে শাহীন তার গলা টিপে ধরে। এতে শিরিন নিস্তেজ হয়ে পড়লে শাহীন গ্রাম্য চিকিৎসক ও অটোরিকশা চালককে ডেকে শিরিন অসুস্থ হয়ে পড়েছে, হাসপাতালে নিতে বলে পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা ঘটনা জানতে পারলে শাহীনের পরিবারের অন্যরাও পালিয়ে যায়।
পরে পুলিশ শাহীনের বসতবাড়ি থেকে শিরিনের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে থানায় নিয়ে আসে। মঙ্গলবার বিকেলে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী জানান, বিয়ের পর থেকেই শাহীন শিরিনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত।
ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, গলা টিপে ধরার আলামত পাওয়া গেছে। গৃহবধূর গলা ফুলে গেছে, ডান হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে সন্দেহ হচ্ছে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের বাবা ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছেন, এসে হত্যা মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। পুলিশ অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।