মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম
একটি স্বপ্ন গড়ে তুলতে লেগেছিল দীর্ঘ বারো বছর। দিনের পর দিন অক্লান্ত পরিশ্রম, ঘাম আর সংগ্রামে গড়ে উঠেছিল মৎস্য খামার। কিন্তু প্রকৃতির এক নির্মম আঘাতে মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু যেন তছনছ হয়ে গেল। পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে বন্যার পানিতে ভেসে গেল খামারের হাজার হাজার মাছ। ভেঙে চুরমার হলো খামারের চারপাশের বাঁধ। এখন নিঃস্ব প্রায় খামারি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।
কেয়াজুর পাড়া টঙ্গঝিরি ৮ নং ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবসার পাশাপাশি পার্বত্য বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে একটি মৎস্য খামার পরিচালনা করে আসছিলেন। মাছ চাষের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের বাগানও করেছেন তিনি। এই খামারই ছিল তার পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
সম্প্রতি টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় তার সেই স্বপ্নের খামারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। প্রবল স্রোতে খামারের বাঁধ ভেঙে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বন্যার পানিতে ভেসে যায়। খামারের অবকাঠামোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সব মিলিয়ে তার প্রায় আট লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
চোখে-মুখে হতাশার ছাপ নিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, “দীর্ঘ ১২ বছর ধরে অনেক কষ্ট করে খামারটি গড়ে তুলেছি। জীবনে কখনো এমন ভয়াবহ ক্ষতির মুখোমুখি হইনি। এখন কীভাবে আবার শুরু করব, সেটাই বুঝে উঠতে পারছি না। সরকারি সহায়তা পেলে হয়তো আবার নতুন করে দাঁড়ানোর সাহস পাব। না হলে পরিবার নিয়ে খুবই কষ্টে দিন কাটাতে হবে।”
তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে আবার নতুন করে খামার গড়ে তুলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক এই বন্যায় জসিম উদ্দিনের খামারের পাশাপাশি ওই এলাকার আরও অনেক মৎস্য খামার ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বন্যার পানিতে বিপুল পরিমাণ মাছ ভেসে যাওয়ায় খামারিরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত সরকারি সহযোগিতা ও কার্যকর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।