স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী:
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে কৃষক ও খামারিদের মধ্যে। সন্ধ্যা নামলেই গোয়ালঘরের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন অনেকে। চোরের ভয়ে রাত জেগে গরু পাহারা দিতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে তাঁদের স্বাভাবিক ঘুম ও দৈনন্দিন জীবনযাপন।
সর্বশেষ গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর পোলঝাড়পাড়া গ্রামে শাহজাহান সবুজ সিদ্দিকীর গোয়ালঘর থেকে সাতটি গরু চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি ডিমলা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।চুরি যাওয়া সাতটি গরুর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় চার লাখ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও গরুগুলোর সন্ধান মেলেনি বলে জানান ভুক্তভোগী।
একের পর এক চুরির ঘটনায় উদ্বেগ
এর আগে প্রায় ২০ থেকে ২১ দিন আগে গয়াবাড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সবজি বেচাটারী এলাকায় কৃষক মাজেদুল ইসলামের বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটে।
মাজেদুল ইসলামের দাবি, গভীর রাতে চোরেরা তাঁর গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এর মধ্যে একটি ছিল গাভিন গরু। এ সময় মানুষের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে একটি গরু ছুটে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। তবে বাকি দুটি গরু নিয়ে পালিয়ে যায় চোরেরা। চুরি যাওয়া দুই গরুর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার টাকা বলে জানান তিনি।স্থানীয়দের অভিযোগ, গরু চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আগে থেকেই বিভিন্ন বাড়ি ও গোয়ালঘরের ওপর নজর রাখে। পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়ার পর গভীর রাতে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে গরু নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ কারণে সন্ধ্যার পর থেকেই অনেক কৃষক ও খামারি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
কৃষকদের কাছে গরু কেবল গবাদিপশু নয়, বরং পরিবারের সঞ্চয়, জীবিকা ও আয়ের অন্যতম উৎস। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য একটি গরু হারানো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে চুরির ঘটনায় শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, পরিবারগুলোর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক উদ্বেগও বাড়ছে।
চুরির আতঙ্কে অনেক কৃষক রাতে পালা করে গোয়ালঘর পাহারা দিচ্ছেন। কোথাও কোথাও কয়েকজন মিলে রাত জেগে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছেন। এতে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।গয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফ ইবনে ফায়সাল মুন বলেন, “ইউনিয়নে চুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিষদের সদস্যদের নিয়ে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি সব গ্রাম পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।”
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “গরু চুরি প্রতিরোধে প্রতিটি ইউনিয়নে বিট মিটিং করেছি। এ ছাড়া চোরাই গরু উদ্ধারে কাজ চলছে।”
এদিকে গরু চুরি বন্ধে গ্রামাঞ্চলে রাতের পুলিশি টহল জোরদার, চুরি যাওয়া গরু দ্রুত উদ্ধার এবং চোরাই গরু কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা।