• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
খুলনা মফস্বল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের সুস্থতা কামনা লোহাগাড়ায় অ্যাক্সেস টেন টাওয়ারের অফিস উদ্বোধন পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩ ​বটিয়াঘাটায় ওসির হুশিয়ারি: অপরাধীদের পক্ষে কোনো তদবির চলবেনা লোহাগাড়ায় যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ইভুর নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত আনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক জোনের প্রথম কারখানা চালু হবে ১৮ মাসের মধ্যেই আইয়ূবপুর ইউনিয়ন পরিষদে নবনির্মিত মসজিদ ও অবকাশ কেন্দ্রের উদ্বোধন খুলনায় তুষার হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি আরিফ গ্রেপ্তার যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ডিমলায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সি ইউ সি, খুলনার উপদেষ্টা ইফতেখার আলী বাবুর ইন্তেকালে গভীর শোক

বাঁশবুনিয়ায় পাকা ধান রক্ষায় কৃষকের অভিনব কৌশল

Reporter Name / ২৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

​ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
​ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে পাখির আনাগোনা। পাশাপাশি পোকামাকড়ের আক্রমণ ও গবাদিপশুর বিচরণেও থাকে ক্ষতির আশঙ্কা। শেষ মুহূর্তে এসব ঝুঁকি এড়াতে ব্যতিক্রমী এক পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার এক কৃষক। ৩৩ শতক জমির পাকা ধান রক্ষায় চারপাশসহ পুরো খেত নেটজাল দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন তিনি।

​উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের বাঁশবুনিয়া এলাকায় দেখা গেছে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। মাঠজুড়ে সবুজ ধানের সমারোহের মধ্যে কৃষক নিল রতন হাওলাদারের জমিতে এখন সোনালি ধান। আর সেই ধান নিরাপদে ঘরে তুলতে জমির চারপাশ ও ওপরের অংশে নিখুঁতভাবে টানানো হয়েছে নেটজাল।

​সরেজমিনে দেখা যায়, জমির চারদিকে খুঁটি পুঁতে নেটজাল বসানোর পাশাপাশি ওপরের অংশও ঢেকে দেওয়া হয়েছে। নিচ দিয়ে যেন কোনো গবাদিপশু প্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এতে পাখির উপদ্রব ও গবাদিপশুর মাধ্যমে ফসল বিনষ্ট হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে।

​কৃষক নিল রতন হাওলাদার জানান, চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো ব্রিধান-৮৭ জাতের আগাম ধান চাষ করেছেন তিনি। ৩৩ শতক জমিতে ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। তবে ধান পাকার পর পাখির আক্রমণ ও অন্যান্য কারণে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। শেষ মুহূর্তে কঠোর পরিশ্রমে ফলানো ফসল রক্ষা করতে নেটজাল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

​নিল রতন হাওলাদার আরও বলেন, “ধান চাষে অনেক পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে ক্ষতি হলে সব পরিশ্রমই পণ্ড হয়ে যায়। তাই কিছুটা বাড়তি খরচ হলেও নেটজাল দিয়ে পুরো জমি ঢেকে দিয়েছি। নিরাপদে ফসল ঘরে তুলতে পারলে আমার কষ্টের সার্থকতা।”

​স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাখির হাত থেকে ধান বাঁচাতে তাঁরা সাধারণত কাকতাড়ুয়া বা উজ্জ্বল ফিতা ব্যবহার করেন। তবে পুরো জমি নেটজাল দিয়ে ঢেকে ফেলার ঘটনা এই এলাকায় একেবারেই নতুন। ফলে নিল রতন হাওলাদারের এই নতুন কৌশল দেখতে প্রতিদিন আশপাশের অনেক কৃষকই তাঁর খেত দেখতে আসছেন।

​এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফাতেমা ইসলাম বলেন, ধান পাকার মৌসুমে পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়াটা স্বাভাবিক ঘটনা। এ ক্ষতি কমাতে কৃষক নিল রতন হাওলাদারের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সঠিকভাবে নেটজাল ব্যবহার করা গেলে ফসল সুরক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব। পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় অন্য কৃষকেরাও এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।

​তিনি আরও বলেন, কষ্টার্জিত ফসল নিরাপদে ঘরে তোলা কৃষকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফসল রক্ষায় এমন সচেতনতা ও নতুন পদ্ধতি গ্রহণের মানসিকতা দেশের কৃষি খাতের জন্যই ইতিবাচক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd