• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
পূর্বধলায় শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, সেক্রেটারি নিলয় চক্রবর্তী পাঁচবিবি সীমান্তে মাদক বিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের সমাপনী অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৪২ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি নতুন কমিটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত সভাপতি খলিল, তরুণ সাংবাদিকদের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির পৃথক অভিযানে ইস্কাফসহ হেরোইন ও গাঁজা আটক পাঁচবিবির যমুনা নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত নেত্রকোণায় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ডিমলা-পাটগ্রামে বিজিবির অভিযান: ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক, বিদেশি মদ জব্দ নেত্রকোনায় থামছে না বাল্যবিয়ে, ১১ মাসে বন্ধ হলো ২১টি বিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের (সিজন-২) উদ্বোধন

মাদ্রাসার সুপারের অবহেলায় শিক্ষার্থীর ১০ বছরের স্বপ্ন ধূলিসাৎ: পরীক্ষা দেওয়া হলো না ছামিয়ার

Reporter Name / ১২২ Time View
Update : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

মোহাম্মদ সুজন মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার, জগন্নাথপুর

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামসি পোস্ট অফিসের আওতাধীন পীরের গাঁও সুন্নিয়া মাদ্রাসার সুপার ও অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল ইসলামের চরম অবহেলায় অলিউর রহমানের মেয়ে ছামিয়া বেগমের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা আর হলো না। পরীক্ষার ফি ও প্রতিষ্ঠানের সকল পাওনা পরিশোধ করার পরও প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট কার্ড) না আসায় দীর্ঘ ১০ বছরের শিক্ষাজীবনের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এই মেধাবী শিক্ষার্থীর।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ছামিয়া বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “মাদ্রাসার সকল পাওনা ও পরীক্ষার ফি আমি সময়মতো জমা দিয়েছি। কিন্তু পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে এলেও আমাকে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়নি। আজ আমার ১০ বছরের ক্যারিয়ার তারা ধ্বংস করে দিলো। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। কেন আমার সাথে এমনটা করা হলো, আমি প্রশাসনের কাছে তার জবাব চাই।”

ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, শ্রেণি শিক্ষক আব্দুল বাসিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফি সংগ্রহ করে যথাযথভাবে সুপার নুরুল ইসলামকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সুপারের গাফিলতির কারণে ফরম পূরণ বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগে ত্রুটি হওয়ায় ছামিয়ার প্রবেশপত্র আসেনি। অভিযোগ উঠেছে, একটি কুচক্রী মহল এই ঘটনায় শ্রেণি শিক্ষক আব্দুল বাসিতকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করছে।

এ বিষয়ে শ্রেণি শিক্ষক আব্দুল বাসিত জানান, “আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি এবং সকল শিক্ষার্থীর ফি অধ্যক্ষ মহোদয়কে বুঝিয়ে দিয়েছি। এখন কেন প্রবেশপত্র আসেনি, সেটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানই ভালো বলতে পারবেন। আমাকে এখানে অহেতুক দোষারোপ করার চেষ্টা চলছে।”

ছামিয়ার মা অভিযোগ করেন যে, এটি কেবল অবহেলা নয় বরং পরিকল্পিত প্রতিহিংসা। তিনি জানান, “আমি অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। সেই নির্বাচনের জের ধরে এবং ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটাতে আজ আমার মেয়ের ১০ বছরের স্বপ্ন তারা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।” তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার/অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম জানান, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে এমনটা হয়েছে আমরা খতিয়ে দেখছি।” তবে সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শাতে তিনি ব্যর্থ হন।

এক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। জনস্বার্থে এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd