মোঃ রায়হান পারভেজ নয়ন
স্টাফ রিপোর্টার নীলফামারী
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত মেডিনোভা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ ওঠার পর মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ক্লিনিকটি বন্ধ করা হয়।
ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবিরের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুজ্জামান এবং ডিমলা থানা পুলিশ অংশ নেয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ক্লিনিকটিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল না থাকা, বৈধ লাইসেন্সের ঘাটতি এবং স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনার সরকারি মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ না করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির বলেন, “বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে সরকারের নির্ধারিত নীতিমালা মেনেই পরিচালিত হতে হবে। জনস্বার্থে এবং চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
জানা গেছে, উপজেলার বাসিন্দা মোছা. তুলী বেগমের (২৯) গত ২২ জুন মেডিনোভা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পরদিন থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং পেট ফুলে যায়। পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি বারবার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা তা গুরুত্ব দেয়নি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়ার পরামর্শও দেয়নি।
পরবর্তীতে গত ২৫ জুন পরিবারের সদস্যরা তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৯ জুন সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযানে নামে এবং ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নিহত তুলী বেগমের স্বামী এমদাদুল হক বলেন, “আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। যারা অবহেলা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আর কোনো পরিবার এ ধরনের ঘটনার শিকার।