ইমরান আহমদ, গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি:
গোয়াইনঘাটে কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এবং বিদ্যালয়কে আনন্দদায়ক স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী।
এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে শুধু সাদামাটা চার দেয়াল নয়, বাংলা ও ইংরেজি বর্ণমালা এবং বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখি ও প্রাকৃতিক দৃশ্যের দৃষ্টিনন্দন চিত্রে সাজানো হয়েছে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের শ্রেণিকক্ষ। এই রঙিন পরিবেশ ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বারান্দা ও শ্রেণিকক্ষের দেয়ালজুড়ে আঁকা হয়েছে বাঘ, সিংহ, হাতি, জিরাফ, হরিণসহ নানা প্রজাতির প্রাণীর ছবি। সেই সঙ্গে রয়েছে টিয়া, ময়না, দোয়েলসহ দেশীয় পাখির চমৎকার সব চিত্র। প্রতিটি ছবির পাশেই বড় ও আকর্ষণীয় রঙে লেখা রয়েছে সংশ্লিষ্ট বাংলা ও ইংরেজি অক্ষর, শব্দ এবং সংখ্যা। ফলে শিশুরা শুধু ছবি দেখেই আনন্দ পাচ্ছে না, খেলার ছলে সহজেই বর্ণমালা ও নতুন শব্দের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিশুদের জন্য ‘ভিজ্যুয়াল লার্নিং’ বা দৃশ্যমান শিখন পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। বইয়ের কালো অক্ষরের চেয়ে চারপাশের রঙিন ছবি শিশুরা দ্রুত ধারণ করতে পারে। এই বৈজ্ঞানিক ধারণার ওপর ভিত্তি করেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম বলেন, “শিশুরা যেন স্কুলকে ভয়ের জায়গা না ভেবে আনন্দের জায়গা মনে করে, সেই লক্ষ্যেই ইউএনও স্যার এই উদ্যোগ নিয়েছেন। বর্ণমালা ও বিভিন্ন প্রজাতির ছবির এই চিত্রাঙ্কন তাদের কল্পনাশক্তি বাড়াচ্ছে। এখন তারা ক্লাসে ঢুকলেই চারপাশের দেয়াল থেকে অনেক কিছু শিখতে পারছে।”
স্থানীয় অভিভাবকরাও উচ্ছ্বসিত। এক শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, “আগে আমার সন্তান স্কুলে আসতে চাইত না, কান্নাকাটি করত। কিন্তু এখন স্কুলের এই রঙিন পরিবেশ আর পশু-পাখির ছবিগুলো তার এতই পছন্দ হয়েছে যে, সে প্রতিদিন হাসিমুখে স্কুলে আসতে চায়। বাসায় গিয়েও দেয়ালের ছবিগুলোর গল্প করে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন, শিশুদের মানসিক বিকাশ, উপস্থিতির হার বৃদ্ধি এবং আনন্দময় শিক্ষার প্রসারে উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয়েও এমন শিক্ষানুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।