মোঃ আবু সাঈদ, স্টাফ রিপোর্টার:
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ৫ নম্বর ভান্ডারকোট ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সম্মানিত সভাপতি ও এলাকার সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব মোঃ মারজান শেখের (৪৭) ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে একটি চক্র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া (ফেক) আইডি খুলে অনৈতিক তথ্য, অপপ্রচার ও হুমকি-ধামকি প্রদর্শনের অভিযোগে তিনি বটিয়াঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন। সাধারণ ডায়েরি নম্বর- ১০১৭ (তারিখ: ১৭/১০/২০২৬)।
জিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকাল আনুমানিক ১১.০০ ঘটিকায় কিসমত লক্ষীখোলা এলাকার নিজ বাসভবনে অবস্থানকালে মোঃ মারজান শেখ তার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট (Md Marjan) থেকে লক্ষ্য করেন যে, তার নাম ও পরিচয়ের সাথে মিল রেখে ‘Mc Marjan’ নামে একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চালু করা হয়েছে। একটি চিহ্নিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা অসাধু চক্র উক্ত ফেক আইডি ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ কাল্পনিক, অসত্য ও অনৈতিক কনটেন্ট পোস্ট করছে। এছাড়া মেসেঞ্জারে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি, হুমকি ও গালাগালি দিয়ে মানসিক হয়রানি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী মোঃ মারজান শেখ বটিয়াঘাটা উপজেলার ভান্ডারকোট ইউনিয়নের কিসমত লক্ষীখোলা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। পিতা মৃত মোছলেম উদ্দিন শেখ ও মাতা রাবেয়া খাতুনের সন্তান হিসেবে এলাকায় এবং জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতিতে তার সুদীর্ঘ সুনাম রয়েছে। ৫ নং ভান্ডারকোট ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর মতে, রাজপথের ত্যাগী ও জনপ্রিয় এই নেতার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এবং তার সামাজিক সুখ্যাতি বিনষ্ট করতেই সাইবার স্পেসকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ষড়যন্ত্রকারীরা।
এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে বিএনপি নেতা মোঃ মারজান শেখ বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। একটি কুচক্রী মহল সুপরিকল্পিতভাবে আমার রাজনৈতিক সফলতা ও সামাজিক ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা ফেক আইডি খুলে অনৈতিক ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। বর্তমানে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। সামাজিকভাবে আইনি ভিত্তি মজবুত রাখতে ও নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত থানায় জিডি করেছি। খুব শীঘ্রই অপরাধীদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে সাইবার অপরাধের সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন বটিয়াঘাটা উপজেলা ও স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ ব্যাপারে বটিয়াঘাটা থানা পুলিশ জানায়, জিডিটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তায় ফেক আইডি পরিচালনা কারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।