মোহাম্মদ সুজন মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার, জগন্নাথপুর
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের চিত্র এখন নিত্যদিনের যানজট আর জনদুর্ভোগের। হাসপাতালের প্রধান ফটক ঘেঁষে গড়ে ওঠা নামী-দামী ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর ব্যবসায়িক অনুমোদন থাকলেও নেই কোনো নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের যানবাহন রাস্তার ওপর যত্রতত্র ফেলে রাখায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, যা এখন সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তিন রাস্তার মোড়। এখান থেকে একটি রাস্তা জগন্নাথপুর-সিলেট প্রধান সড়কের সাথে যুক্ত হয়েছে, আর অন্যটি চলে গেছে জগন্নাথপুর ডিগ্রি কলেজের দিকে। প্রতিদিন দুপুর থেকে রাত ১০-১১টা পর্যন্ত এই মোড়ে যানজট লেগেই থাকে। সরেজমিনে দেখা যায়, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে আসা অ্যাম্বুলেন্স, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং প্রাইভেট কারগুলো রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। এতে মূল রাস্তার প্রস্থ কমে গিয়ে সাধারণ পথচারী ও জরুরি মুমূর্ষু রোগীদের বহনকারী যানবাহন চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একেকটি বড় বড় ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করলেও জনস্বার্থের কথা চিন্তা করে তারা কোনো পার্কিং জোন তৈরি করেনি। ভবন নির্মাণের সময় পার্কিংয়ের জায়গা রাখার নিয়ম থাকলেও প্রভাবশালী এই ব্যবসায়ীরা তা মানছেন না। মুনাফা আদায়ে মরিয়া এসব প্রতিষ্ঠান রাস্তার ওপর গাড়ি পার্কিং করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলেও এ নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা জানান, হাসপাতাল গেটের এই যানজট নিরসনে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এটি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে কলেজের শিক্ষার্থী এবং জরুরি রোগীদের জন্য এই মোড়টি অতিক্রম করা এখন দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি-অবিলম্বে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। রাস্তার ওপর অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ। হাসপাতাল সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের তদারকি বৃদ্ধি করা।
এই দুর্বিষহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন জগন্নাথপুরবাসী।