মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার নিম্নাঞ্চল, গ্রামীণ জনপদ, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর, কৃষক ও খেটে খাওয়া পরিবারগুলো।
বন্যার পানিতে হাজারো পরিবারের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও গবাদিপশু রক্ষা করতে গিয়ে অনেক পরিবার অসহায় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। কোথাও কোমরসমান, আবার কোথাও বুকসমান পানিতে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। আমন ধানের বীজতলা, সবজি ক্ষেত, মাছের ঘের ও পুকুরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে কৃষকদের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। অনেকের বছরের একমাত্র সম্বল মুহূর্তেই পানির নিচে হারিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন আরও বাড়ছে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।
এদিকে বিভিন্ন সড়ক ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা পানির নিচে চলে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, আদালত ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমও বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পেতেও ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত সরকারি ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, প্রতি বছর বর্ষা এলেই সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার মানুষ একই দুর্ভোগের শিকার হন। স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন, খাল-নদী পুনঃখনন এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না।
টানা বর্ষণ ও বন্যার এই দুর্যোগে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার মানুষের চোখে এখন শুধু অনিশ্চয়তা। অনেকের ঘরে চুলা জ্বলছে না, অনেক শিশুর মুখে পর্যাপ্ত খাবার নেই। প্রিয় ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার উৎস হারিয়ে অসংখ্য পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকার, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও বিত্তবান ব্যক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবেন।