মোঃ রায়হান পারভেজ নয়ন
স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী
নীলফামারীর ডিমলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আলম প্লাজা সংলগ্ন ‘ইনসাফ হাসপাতাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত গণসংবর্ধনা ও আলোচনা সভা এনসিপির একাংশের বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত পণ্ড হয়ে যায়।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এনসিপির নাম ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ অভিযোগ তুলে তারা অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান শুরু হলেও কিছুক্ষণ পর এনসিপির একটি বড় গ্রুপ সেখানে উপস্থিত হয়ে আয়োজনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং অনুষ্ঠান পরিচালনায় বাধা দেয়। তাদের দাবি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মূলধারার নেতাদের না জানিয়ে দলীয় পরিচয়ে এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে, যা দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
বিক্ষুব্ধদের আরও অভিযোগ, অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছে আলম প্লাজা সংলগ্ন ‘ইনসাফ হাসপাতাল’-এ, যার জমির মালিক স্থানীয় আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহ আলম। তারা দাবি করেন, নীলফামারী জেলা এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মোঃ রাশেদ ইসলামের সহযোগিতায় এই আয়োজন করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেক সাধারণ মানুষ প্রথমে ধারণা করেছিলেন এটি ইনসাফ হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। পরে সেখানে রাজনৈতিক সমাবেশ চলছে বুঝতে পেরে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ শাহ আজিজুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, তিনি কোনো গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা নন। একজন অমুক্তিযোদ্ধাকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে উপস্থাপন করায় স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ও যোগদান কর্মসূচির প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি নীলফামারী জেলার সদস্য সচিব ডা. মোঃ কামরুল ইসলাম দর্পণ। এছাড়া বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যুবশক্তি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সংগঠক ও রংপুর বিভাগীয় উপ-কমিটির সদস্য সাইদুজ্জামান বাবু এবং ডোমার উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট আসিফ ইকবাল। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মোঃ রাশেদ ইসলাম।
বিক্ষোভ ও বাধার মুখে অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত পণ্ড হয়ে যায় এবং এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারী জেলা এনসিপির সদস্য সচিব ডা. মোঃ কামরুল ইসলাম দর্পণ বলেন, “দাওয়াত পাওয়া বা না পাওয়া নিয়ে দলের ছেলেদের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় আমি সেখান থেকে চলে আসি।” সংঘর্ষ বা ভাঙচুরের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
অন্যদিকে ব্যানারে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে নাম ব্যবহার প্রসঙ্গে জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহ আজিজুর রহমান তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে পরে কথা বলবো।
এ ঘটনায় স্থানীয় এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
১৯৭১ সালে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধে গিয়েছিলাম কোনো পদ বা স্বীকৃতির জন্য নয়। কিন্তু আজ যদি দেখি কেউ মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও সেই পরিচয় ব্যবহার করে মঞ্চে বসেন, তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অসম্মান।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।