স্টাফ রিপোর্টার:
আগামী ১লা অক্টোবর বিশ্ব প্রবীণ দিবস। এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং দেশের অগ্রযাত্রায় প্রবীণদের আজীবন অনবদ্য অবদানকে সম্মান জানাতে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী জাতীয় মানবাধিকার সংগটন ‘হিডস লিগ্যাল এইড ফাউন্ডেশন’। সাংবাদিকতা, সাহিত্য,সংস্কৃতি,ধর্ম, সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, অর্থনীতি এবং মানবকল্যাণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের শীর্ষ ১২ জন জ্যেষ্ঠ প্রবীণ ব্যক্তিত্বকে “বিশ্ব প্রবীণ দিবস সম্মাননা-২০২৬” প্রদান করা হবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে এক যৌথ বিবৃতিতে হিডস লিগ্যাল এইড ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন ডা: হারুন অর রশিদ এবং মহাসচিব মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান এই গৌরবময় আয়োজনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। তাঁরা জানান, একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি মজবুত করার পেছনে প্রবীণদের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা, ত্যাগ এবং শ্রম জড়িয়ে থাকে। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই তারা জীবনের শেষ ভাগে এসে অবহেলা ও একাকীত্বের শিকার হন। প্রবীণদের এই অমূল্য অবদানকে রাষ্ট্র ও সমাজের সামনে আরও উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরতেই এই সম্মাননার আয়োজন।
সম্মাননাপ্রাপ্তদের নির্বাচন প্রক্রিয়ার ব্যাপারে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন ডা: হারুন অর রশিদ এবং মহাসচিব মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান স্পষ্ট করে বলেন, “এই পুরস্কারের স্বচ্ছতা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে একটি উচ্চপর্যায়ের এবং নিরপেক্ষ জুরিবোর্ড গঠন করা হয়েছে। সম্মানিত জুরিবোর্ডের সুচিন্তিত মতামত, চুলচেরা বিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্যায়নের ভিত্তিতেই দেশসেরা ১২ জন জ্যেষ্ঠ প্রবীণ ব্যক্তিত্বকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হবে।”
ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন ডা: হারুন অর রশিদ প্রবীণদের অধিকার ও সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “প্রবীণরা আমাদের সমাজের বোঝা নন, বরং তারা আমাদের আলোকবর্তিকা। শিক্ষা, সংস্কৃতি কিংবা অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে আজ আমরা যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছি, তা তাদেরই আজীবনের সাধনার ফসল। হিডস লিগ্যাল এইড ফাউন্ডেশন সব সময় প্রবীণদের আইনি সহায়তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে। এই সম্মাননা প্রবীণদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা এবং নতুন প্রজন্মের জন্য এক বার্তা, যাতে তারা প্রবীণদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান জানাতে শেখে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সমাজসেবায় অবক্ষয় রোধ ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণ, সংস্কৃতিতে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ, শিক্ষায় আলোকায়ন এবং দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে যারা জীবনের সোনালী সময় বিলিয়ে দিয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই এই বারো জন কৃতী সন্তানকে বেছে নেওয়া হচ্ছে। আগামী অক্টোবরে এক জমকালো ও মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রবীণ গুণীজনদের হাতে এই সম্মাননা স্মারক, উত্তরীয় ও বিশেষ উপহার তুলে দেওয়া হবে।
এই আয়োজনটি দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা, তাদের প্রতি তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি এবং প্রবীণবান্ধব সমাজ গঠনে একটি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন দেশের সুশীল সমাজ।