মোঃ আবু সাঈদ, স্টাফ রিপোর্টার:
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৪ জুলাই) উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকার বিএনএস সেন্টার সংলগ্ন প্রধান সড়কে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের আকস্মিক এই আন্দোলনের ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ উত্তরার আশপাশের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা বিএনএস সেন্টারের সামনের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অবরোধ করে অবস্থান নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি ও ক্ষোভের কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
সড়ক অবরোধের কারণে বিমানবন্দর ও আব্দুল্লাহপুরের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে সব ধরনের যান চলাচল সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শত শত গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ি রাস্তায় আটকে পড়ে। দীর্ঘ সময় তীব্র গরমে গাড়িতে বসে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের। অনেকে বাধ্য হয়ে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার নানা সংকট এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ে ব্যর্থতার দায়ে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চান। এটি এখন তাদের এক দফা দাবিতে পরিণত হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে তারা বলেন, অবিলম্বে এই দাবি মেনে নেওয়া না হলে আগামীতে আরও কঠোর ও লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তারা যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে রাজপথে সতর্ক অবস্থান নেন। পুলিশ কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালান।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উত্তরায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা চলছিল বলে জানা গেছে।