• রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

শোকের আবরণে এক সৃজনসাধকের বিদায়, কবি ও গবেষক মাহমুদুল হাসান নিজামী

Reporter Name / ১২৩ Time View
Update : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬

 

শাহ্ ফুজায়েল আহমদ, স্টাফ রিপোর্টার:

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
বাংলা সাহিত্যভুবনের এক বহুমাত্রিক প্রতিভা,কবি ও গবেষক মাহমুদুল হাসান নিজামী ৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে দেশের সাহিত্যাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, গীতিকার, সুরকার,গবেষক ও সংগঠক—যাঁর জীবন ছিল শব্দ ও সুরের এক নিরলস সাধনা।
১৯৭১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার কালাপানিয়ায় তাঁর জন্ম। শৈশব থেকেই তিনি সাহিত্যপ্রেমী ও মননশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতির আবহে বেড়ে ওঠা তাঁর মানসগঠনে গভীর প্রভাব ফেলে, যা পরবর্তীতে তাঁর রচনায় মানবতা, সমাজচেতনা ও প্রেমের অনন্য সমন্বয়ে প্রতিফলিত হয়।
সাহিত্যসাধনায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রগাঢ় ও কর্মমুখর। ২০২২ সাল পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৩২টির অধিক। কবিতা, গবেষণা, প্রবন্ধ ও গীতিকাব্য—বহু ধারায় তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল লক্ষণীয়। তাঁর লেখনীতে আধুনিক কবিতার শৈল্পিক বিন্যাস যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে ইসলামী জীবনবোধ, দার্শনিক চিন্তা ও বিশ্বসাহিত্যের প্রভাব। এক হাজারেরও বেশি গান ও কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এক উর্বর সৃষ্টিশীল শক্তি হিসেবে।
বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে বাংলা ভাষার সংযোগ স্থাপনে তাঁর অনুবাদকর্ম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রখ্যাত পারস্য কবি শেখ সাদী,ফরিদ উদ্দিন আত্তার এবং আরবি সাহিত্যের ধ্রুপদি কবি ইমরুল কায়েস-এর কবিতার কাব্যানুবাদ করে তিনি পাঠকমহলে প্রশংসিত হন। তাঁর অনুবাদ ছিল ভাবনিষ্ঠ ও রুচিসম্মত, যা মূল সৃষ্টির সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখে বাংলা ভাষায় নতুন মাত্রা সংযোজন করেছে।
সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি দৈনিক দেশজগত পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ‘জাতীয় কবিতা মঞ্চ’-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কবিতাকে গণমানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সচেষ্ট ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে কবিতা হয়ে উঠেছিল সমাজসচেতনতার এক শক্তিশালী মাধ্যম।
মাহমুদুল হাসান নিজামী মূলত ছিলেন এক দায়বদ্ধ সাহিত্যিক। তাঁর লেখালেখিতে সামাজিক ও মানবিক বিষয়াবলি সুস্পষ্টভাবে পরিস্ফুটিত হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করতেন—সাহিত্য কেবল বিনোদনের বিষয় নয়, বরং এটি নৈতিক জাগরণ ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য মাধ্যম।
আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর সৃষ্টিকর্ম, চিন্তাধারা ও সাহিত্যসাধনা বাংলা সাহিত্যকে দীর্ঘদিন আলোকিত করবে। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর রুহের মাগফিরাত দান করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চ মাকাম নসিব করুন—এই প্রার্থনাই রইল। আমিন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd