• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
খুলনা মফস্বল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের সুস্থতা কামনা লোহাগাড়ায় অ্যাক্সেস টেন টাওয়ারের অফিস উদ্বোধন পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩ ​বটিয়াঘাটায় ওসির হুশিয়ারি: অপরাধীদের পক্ষে কোনো তদবির চলবেনা লোহাগাড়ায় যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ইভুর নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত আনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক জোনের প্রথম কারখানা চালু হবে ১৮ মাসের মধ্যেই আইয়ূবপুর ইউনিয়ন পরিষদে নবনির্মিত মসজিদ ও অবকাশ কেন্দ্রের উদ্বোধন খুলনায় তুষার হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি আরিফ গ্রেপ্তার যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ডিমলায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সি ইউ সি, খুলনার উপদেষ্টা ইফতেখার আলী বাবুর ইন্তেকালে গভীর শোক

‎সুনীল অর্থনীতি ও উন্নয়নের সুফল কারা পাচ্ছেন?

Reporter Name / ৭২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

‎

‎এস এম ইয়াকুব আলী
‎
‎সুনীল অর্থনীতি হলো অর্থনীতির এমন একটি শাখা যেখানে সমুদ্র ও সামুদ্রিক পরিবেশের বিভিন্ন সম্পদ ব্যবহার করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামুদ্রিক সম্পদের উপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও সুনীল অর্থনীতির মূল বিষয় হলো সমুদ্র পরিবেশ ও জীববৈচিত্র নষ্ট না করে টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করে সম্পদ আহরণ করা।
‎
‎সুনীল অর্থনীতির প্রায়  ২৬ টির বেশি খাত রয়েছে। এরমধ্যে কিছু প্রধান খাত হলো মৎস্য সম্পদ আহরণ ও একুয়া কালচার (মাছ চাষ), সামুদ্রিক ও উপকূলীয় পর্যটন, সমুদ্রপথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন (মেরিটাইম শিপিং), সমুদ্রের তলদেশ থেকে তেল ও  গ্যাস উত্তোলন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সমুদ্রের বালি, লবন ও খনিজ সম্পদ আহরণ ইত্যাদি। এসব খাতের পূর্ণাঙ্গ যথোপযুক্ত ব্যবহার ও কার্যক্রম  অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক বা সুনীল অর্থনীতি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি  কর্মসংস্থান এবং জীবিকা উন্নয়নের জন্য ব্যাপক সুযোগ প্রদান করে।  কিন্তু উপকূলীয় জনগোষ্ঠী যাতে এর সুফল পায় তা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
‎
‎বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের প্রায় ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের জায়গা রয়েছে, যা দেশের একচ্ছত্র সামুদ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চল ও মাছ ধরার উপযোগী। এ অঞ্চল থেকে সামুদ্রিক বিভিন্ন মৎস্য আহরণ থেকে শুরু করে মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যন্ত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদন  করা হয়। এই  অঞ্চল আমদানি – রপ্তানিসহ এমন সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে যা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে জাতীয় ও  আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বাজারের সাথে যুক্ত করে। সে ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আরো বেশি মনোযোগের দাবি রাখে, তা হল বাংলাদেশের ক্রম বর্ধমান সুনীল অর্থনীতি থেকে কারা বেশি লাভবান ও কারা পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে?
‎
‎সুনীল অর্থনীতিতে শুধু রাজস্ব আদায় ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার সম্পর্কেই গুরুত্বারোপ না করে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদের টেকসই ব্যবহার, বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং উন্নয়নের সুফল যেন এই সম্পদের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করার দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত।
‎
‎বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন ২০০ নটিক্যাল মাইল এলাকার অধিভুক্ত এই দেশ তার মৎস্যখাত কে টেকসইভাবে উন্নত করতে উল্লেখযোগ্যভাবে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। বাংলাদেশের মৎস্য অধিদপ্তরের ডাটাবেজ এবং ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে দেশব্যাপী প্রথম ‘‘নৌযান শুমারি’’ অনুযায়ী,  অনুমোদিত ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী নৌকার সংখ্যা ২৫,৩৪৬ টি। তবে নিবন্ধিত সামুদ্রিক ও যান্ত্রিক নৌকার মোট সংখ্যা প্রায় ৩০,০৫৩ টি। অবৈধ বা অনিবন্ধিত নৌকার সংখ্যার নিখুঁত সরকারি  হিসাব এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত না হলেও, মৎস্য অধিদপ্তর এবং কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী এই সংখ্যা প্রায় ৬৫,০০০ টি। এছাড়াও এই শুমারির প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, দেশে চলাচলকারী প্রায় ২.৭  লাখ ইঞ্জিনের নৌযানের মধ্যে সিংহভাগেরই বৈধ নিবন্ধন নেই। এই পরিসংখ্যানগুলো সামুদ্রিক কার্যকলাপের ব্যাপকতা ও কার্যকর মৎস্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে। তবে এই সম্প্রসারণশীল অর্থনৈতিক কার্যকলাপই এর সুফল ন্যায্যভাবে বন্টনের নিশ্চয়তা দেয় না।
‎
‎সামুদ্রিক উন্নয়ন নৌযানের  মালিক, মাছ ব্যবসায়ী, প্রক্রিয়াজাতকারী, পরিবহন অপারেটর, রপ্তানিকারক এবং শ্রমিকদের জন্য সুযোগ তৈরি করে। তবুও এই শৃংখলভুক্ত মানুষের অবস্থান ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় যাদের নিজস্ব নৌকা, সরঞ্জাম, সংরক্ষণাগার বা বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক রয়েছে, তারা মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্রে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে। শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী যারা রয়েছেন, ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয়, অনিশ্চিত মাছ ধরা ও বাজার ওঠানামা কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকতে পারে। ক্ষুদ্র মৎস্যখাত নিয়ে এক গবেষণায় বাংলাদেশের এই ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সীমিত সুযোগ, ঋণগ্রস্থতা এবং জীবিকার নিরাপত্তাহীনতার মধ্যকার সম্পর্কটি তুলে ধরা হয়েছে। জেলেরা যখন মাছ ধরার খরচ যোগাতে অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণদাতাদের উপর নির্ভর করে, তখন দরকষাকষি বা মুনাফা ধরে রাখার ক্ষমতা সীমিত হয়ে যেতে পারে।
‎
‎সুনীল অর্থনীতির মৎস্য সম্পদ আহরণ খাতে উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরমধ্যে মাছ প্রক্রিয়াকরণ, ব্যবসা ও অন্যান্য কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু SAGE Open এ প্রকাশিত  ২০২৪ সালের এক গবেষণায় বলা হয় যে, নারীদের ঋণ প্রাপ্তি, আয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদনশীল সম্পদে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে লিঙ্গ সম্পর্কিত বাধা রয়েছে। উপকূলীয় এ শাসন ব্যবস্থা ও বৈষম্য সুনীল অর্থনীতির উন্নয়নের সুফল লাভ এর ক্ষেত্রে এক বড় চ্যালেঞ্জ।
‎
‎উপকূলীয় এ বৈষম্য শুধুমাত্র আয়ের পার্থক্যের দ্বারাই নয় বরং অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, বাজার কাঠামো, এবং সরকারি সহায়তার অসম সুযোগ ও বন্টনের দ্বারাও গঠিত হয়। এতে করে ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী ও স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো যথা সম্ভব উন্নয়ন সুফল থেকে বঞ্চিত হয়। মৎস্যবিধিমালার দুর্বল প্রয়োগ,সীমিত স্বচ্ছতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অপর্যাপ্ত অংশগ্রহণ অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে কে আরো বাধাগ্রস্থ করতে পারে। এক্ষেত্রে কিছু কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক।
‎
‎একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সুনীল অর্থনীতির দিকে বাংলাদেশ কয়েকটি বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে ধাবিত হতে পারে। প্রথমত, সুশাসন নিশ্চিত করে সামুদ্রিক সম্পদ এর ব্যবহার টেকসই ভাবে পরিচালিত করতে হবে এবং উন্নয়ন কর্মসূচি গুলো এমনভাবে পরিচালিত করতে হবে যাতে ঝুঁকিপূর্ণ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে সাহায্য হয়। দ্বিতীয়ত, ক্ষুদ্র মৎস্য  জীবীদের সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য আনুষ্ঠানিক ঋণ বীমা এবং ন্যায্য বাজারে উন্নততর প্রবেশ অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, নারী ও প্রান্তিক উপকূলীয় পরিবারদের উপযুক্ত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান এবং মৎস্য ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে আরো সম্পৃক্ত করা উচিত। এছাড়াও ধ্বংসাত্মক মাছ ধরার কার্যক্রম এর বিরুদ্ধে কঠোর বিধিমালা প্রয়োগ ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। পরিশেষে সরকারি কর্মসূচি গুলোর সুবিধা প্রকৃতপক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার গুলোর কাছে পৌঁছেছে কিনা তা  নির্ধারনের জন্য সেগুলোর পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
‎
‎বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতি কে চূড়ান্তভাবে শুধু এর সামুদ্রিক শিল্পের মূল্যের ভিত্তিতে নয় বরং এর সাথে জড়িত জনগোষ্ঠীর কল্যাণের নিরিখেও বিচার করা উচিত। এতে করে  টেকসই সামগ্রিক উন্নয়ন এ অবশ্যই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে ন্যায্য সুযোগ, জবাবদিহি মূলক শাসন এবং পরিবেশ সুরক্ষা সমন্বয় করা হবে। এতে করে সুনীল অর্থনীতি ধাবিত হবে টেকসই ব্যবহার ও নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর কল্যাণে।
‎
‎লেখক পরিচিতিঃ এস এম ইয়াকুব আলী
‎বিএসএস, এম এস এস (অর্থনীতি), জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
‎শিক্ষার্থী, এমবিএ ,ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd