• শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
জগন্নাথপুরে ৪টি পূজা মণ্ডপে সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী সুজাতুর রহমানের অর্থ সহায়তা দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৮ দিন বন্ধ সোনামসজিদ স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পূজামন্ডপের নিরাপত্তায় সতর্ক অবস্থানে ৫৯ বিজিবি নজরুল বর্ষের জাতীয় প্রতিযোগিতায় সিলেটে প্রথম মিশাল বিশ্বনাথে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫ ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শারদীয় দুর্গা উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজনে বিএনপি নেতা পার্থ দেব মন্ডল পূর্বধলায় ধলাই নালা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার জব্দ শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবি পুলিশের বিশেষ টহল জোরদার নিয়ামতপুরে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন – এমপি মোস্তাফিজুর রহমান থানচি-তিন্দুমুখ সংযোগ সড়কে পর্যটকবাহী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

যে উৎসব আনে আনন্দ, তা কি কখনো ডেকে আনে দুশ্চিন্তা?

Reporter Name / ২৩ Time View
Update : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

অনিশা দাস

উৎসব মানেই আনন্দ, উৎসব মানেই প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলেমিশে সময় কাটানো। বাঙালির জীবন ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো উৎসব। উৎসব আমাদের জীবনে আনন্দ, সম্প্রীতি ও নতুন উদ্দীপনা নিয়ে আসে। তবে গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, যে উৎসব আনন্দের উপলক্ষ্য, তা কখনো কখনো মানুষের জীবনে দুশ্চিন্তা, অনিশ্চয়তা ও নানা সংকটেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়।বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে উৎসবের আনন্দ অনেক সময় আর্থিক দুশ্চিন্তা হয়ে দেখা দেয়। সবাই যখন নতুন পোশাক ও নানা আয়োজনে উৎসব উদ্‌যাপনে ব্যস্ত থাকে, তখন অনেক পরিবারের পক্ষে সেই আনন্দে অংশ নেওয়া সম্ভব হয় না। সন্তানদের আবদার পূরণ ও উৎসবের খরচ জোগাতে গিয়ে অনেক বাবা-মাকে আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হয়। ফলে আনন্দের পরিবর্তে তাঁদের মনে তৈরি হয় দুশ্চিন্তা ও অসহায়ত্ব।উৎসবের প্রভাব শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ওপরও পড়তে পারে। আনন্দ উদ্‌যাপন করতে গিয়ে পড়াশোনায় অবহেলা করলে বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়তে পারে। সাময়িক আনন্দ যেন ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জনে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকা প্রয়োজন। আনন্দ ও দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।উৎসবের আনন্দ নষ্ট হওয়ার আরেকটি কারণ হলো অসচেতনতা ও বিশৃঙ্খলা। বেপরোয়া যানবাহন চালানো এবং সড়ক নিরাপত্তার নিয়ম উপেক্ষা করার ফলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একটি দুর্ঘটনা শুধু একজন মানুষের জীবনকেই বিপর্যস্ত করে না, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকেও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি দুর্ঘটনার শিকার হলে সেই পরিবারকে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।এ ছাড়া উৎসবের সুযোগে মাদক গ্রহণ ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতাও উদ্বেগজনক। সাময়িক আনন্দের মোহে তরুণেরা নিজেদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অথচ তরুণ সমাজই দেশের সম্ভাবনাময় শক্তি। তাই উৎসবের প্রকৃত উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করা, কোনোভাবেই নিজের বা অন্যের ক্ষতির কারণ হওয়া নয়।তবে এসব সমস্যার কারণে উৎসবের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। প্রয়োজন দায়িত্বশীলভাবে উৎসব উদ্‌যাপন করা। সামর্থ্যের মধ্যে আয়োজন করা, পড়াশোনার প্রতি যত্নবান থাকা, সড়ক নিরাপত্তা মেনে চলা এবং মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা জরুরি। পাশাপাশি সচ্ছল মানুষ অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়ালে উৎসবের আনন্দ আরও বেশি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে।আমার উপলব্ধি, উৎসব শুধু আনন্দের উপলক্ষ্য নয়; এটি আমাদের মানবিকতা ও দায়িত্ববোধেরও পরিচয় বহন করে। যে আনন্দ অন্যের কষ্টের কারণ হয় কিংবা নিজের ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করে, সেই আনন্দের প্রকৃত সার্থকতা নেই। তাই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি জীবনের নিরাপত্তা, শিক্ষার গুরুত্ব ও সামাজিক দায়িত্বের প্রতিও আমাদের সচেতন থাকতে হবে।খুলনা আর্ট একাডেমিতে আমার শিক্ষা আমি অনিশা দাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য খুলনা আর্ট একাডেমির ১৭তম ব্যাচের চারুকলা ভর্তি কোচিংয়ে ভর্তি হয়েছি। এখানে চারুকলার প্রস্তুতির পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা, শিষ্টাচার ও মূল্যবোধের শিক্ষাও অর্জন করছি।খুলনা আর্ট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও আমার শিল্পগুরু চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস স্যার আমাদের একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি শেখান, একজন শিল্পীর হাতে যেমন রং ও তুলি থাকে, তেমনি তাঁর হৃদয়ে থাকা প্রয়োজন মানবিকতা, সততা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অন্যকে সম্মান করা এবং নিজের দায়িত্ব পালন করার মতো বিষয়গুলো নিয়েও তিনি আমাদের ভাবতে শেখান।স্যারের কাছ থেকে আমি উপলব্ধি করেছি, শিল্পী হওয়া মানে শুধু সুন্দর ছবি আঁকা নয়; একজন মানবিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হয়ে ওঠাও শিল্পশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর অনুপ্রেরণায় আমি নিজের চিন্তা ও অনুভূতিগুলো লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করতে উৎসাহিত হয়েছি। এ জন্য তাঁর প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।আমি আশা করি, খুলনা আর্ট একাডেমিতে অর্জিত শিক্ষা আমাকে ভবিষ্যতে একজন দক্ষ শিল্পীর পাশাপাশি একজন নৈতিক, মানবিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে।

লেখক পরিচিতি:

অনিশা দাস
শিক্ষার্থী, ১৭তম ব্যাচ
খুলনা আর্ট একাডেমি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd