বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
উৎসবমুখর পরিবেশে যুক্তরাজ্যে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা (বিজিএম) এবং নির্বাচন ২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে গোলজার খান চেয়ারপার্সন, মোহাম্মদ মোহাব্বত শেখ সেক্রেটারি এবং মনির আহমদ ট্রেজারার পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
গতকাল রোববার যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের পার্শ্ববর্তী শহরের দি গ্রাউন্ড রাউন্ড হাউস পার্টি সেন্টারে দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলে। যুক্তরাজ্যে বিশ্বনাথ উপজেলার সর্ববৃহৎ এই অরাজনৈতিক সংগঠনের মোট ৮০৮ জন ট্রাস্টির মধ্যে ৭৪৯ জন ট্রাস্টি তাদের ভোট প্রদান করে ২০২৬-২০২৮ সালের জন্য ১৭ সদস্য বিশিষ্ট বোর্ড অব ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করেন।
এর পূর্বে ট্রাস্টের বর্তমান চেয়ারপার্সন মাফিজ খানের সভাপতিত্বে ও বর্তমান সেক্রেটারি গোলজার খানের পরিচালনায় বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিগত অর্থ বছরের আয়-ব্যয় ও কার্যক্রমের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয় এবং বার্ষিক স্মারক প্রকাশিত হয়।
বার্ষিক সভায় বক্তব্য রাখেন ট্রাস্টের বর্তমান ভাইস চেয়ারপার্সন মিসবাহ উদ্দিন, ফরিদ আহমদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আব্দুর রহিম রঞ্জু, কবির মিয়া, ট্রেজারার আখলাকুর রহমান, অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেজারার হাসিনুজ্জামান, প্রেস অ্যান্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি শরিফুল ইসলাম, কালচারাল সেক্রেটারি মোহাম্মদ দৌলত হোসেন, ইসি মেম্বার আবুল হোসেন মামুন, খালেদ খান, নেছার আলী লিলু, সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, শেখ মোবাশ্বির আলী ও গয়াছ উদ্দিন।
বিশ্বনাথে শিক্ষার প্রসার ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিলেতের মাটিতে প্রবাসী বিশ্বনাথবাসীর এই আয়োজন এক মহা মিলনমেলায় পরিণত হয়।
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে গোলজার-কুদ্দুস-মনির ও মিসবাহ-মোহাব্বত-নেছার নামে দুটি প্যানেল অংশ নেয় এবং নির্বাচনে প্রায় সবকটি পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই অনুষ্ঠিত হয়।
ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর ভোট গণনা শেষে যুক্তরাজ্যের সময় রাত ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট ইমিগ্রেশন জজ বেলায়েত হোসেন অপর চার নির্বাচন কমিশনার এ.কে.এম ইয়াহিয়া, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল মতিন ও আবুল কাহারের উপস্থিতিতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।
এতে চেয়ারপার্সন পদে ৩৭ ভোটের ব্যবধানে গোলজার খান (৩৯৩) প্রতিদ্বন্দ্বী মিসবাহ উদ্দিনকে (৩৫৬), সেক্রেটারি পদে ৪৫ ভোটের ব্যবধানে মোহাম্মদ মোহাব্বত শেখ (৩৮৯) প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল কুদ্দুসকে (৩৪৪) এবং ট্রেজারার পদে ৩৫ ভোটের ব্যবধানে মনির আহমদ (৩৮৪) প্রতিদ্বন্দ্বী নেছার আলী লিলুকে (৩৪৯) হারিয়ে বিজয়ী হন।
১৭ সদস্য বিশিষ্ট এই বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের কার্যকরী পরিষদে নির্বাচিত অন্যান্যরা হলেন, ভাইস চেয়ারপার্সন পদে আখলাকুর রহমান ৪৩৬ ভোট ও আজম খান ৪২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বী কবির মিয়া ২৯৫টি এবং ফরিদ আহমদ ২৯৩টি ভোট পান।
জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে আব্দুর রহিম রঞ্জু ৪১৬ ভোট ও শরিফুল ইসলাম ৩৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বী শাহ নূরুল আলম নাহিন ৩১২টি ও সিরাজুল ইসলাম ৩০০টি ভোট পান।
অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেজারার পদে ৫৪ ভোটের ব্যবধানে আবুল হোসেন মামুন (৪০০) প্রতিদ্বন্দ্বী তোফাজ্জুল আলমকে (২৪৬), প্রেস অ্যান্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি পদে ৯৪ ভোটের ব্যবধানে মোহাম্মদ দৌলত হোসেন (৪১৩) প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদ মাসুদ রনিকে (৩১৯) এবং কালচারাল সেক্রেটারি পদে ৭৯ ভোটের ব্যবধানে মদরিছ আলী মফজ্জল (৩৯২) প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রবকে (৩১৩) হারিয়ে বিজয়ী হন।
৭ সদস্য বিশিষ্ট ইসি মেম্বার পদে বিজয়ীরা হলেন, আজিজুর রহমান খান রাজু ৪৫১টি, আমিনুর রহমান ৪২৯টি, আব্দুল বাছিত রফি ৩৮৮টি, শাহ তাজুল ইসলাম ৩৭৮টি, রুহেল ইসলাম ৩৭৩টি, মো. কামরুজ্জামান ৩৭০টি এবং আজিজুর রহমান রুমেল ৩৫৭টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ইসি মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বী রুহেল মিয়া ৩৪৫টি, শামীম নুর ৩৩১টি, মুহিত মিয়া ২৯৯টি, গোলজার আহমদ ফয়ছল ২৯৫টি, আব্দুল হামিদ ২৭৯টি, শামীম আহমদ ২৭৭টি এবং মহিউদ্দিন পলাশ ২৬৬টি ভোট পান।