লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইনের জন্য নিয়ে আসা ১২ জন ভারতীয় নাগরিককে রাতের আঁধারে ফেরত নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
গত রোববার ভোরে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ওই রাতে দুই নারী, আট পুরুষ ও দুই শিশুকে কাঁটাতারের গেট খুলে নিয়ে যায় বিএসএফ। ঘটনার পর থেকে বিজিবি বাংলাদেশ অংশে টহল জোরদার করেছে। পাশাপাশি বিএসএফও অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে অবস্থান নিয়ে আছে বলে বিজিবি ও স্থানীয়রা জানিয়েছে।
বিজিবি ও স্থানীয়রা জানায়, রোববার সারাদিন ও গভীর রাত পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্তে অবস্থান করছিল ভুক্তভোগীরা। দিবাগত রাতে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্ত এলাকার পিলার ৮৩৮-এর ১ নম্বর উপপিলারের বিপরীতে ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার চ্যাংড়াবান্ধার বিএসবাড়ি সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়াসংলগ্ন বৈদ্যুতিক লাইট বন্ধ করে দেয় বিএসএফ। এ সময় ওই ১২ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
গত রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোরে ওই সীমান্ত দিয়ে ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বিএসবাড়ি ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা ওই ১২ জনকে কাঁটাতারের গেট দিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠায়। এ সময় বামনদল এলাকার স্থানীয় লোকজন টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্ত এলাকার বিজিবির ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) বুড়িমারী সদর ক্যাম্পের সদস্যদের অবহিত করেন। পরে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ১২ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠায়।
পুশইনের ঘটনায় বিজিবি-বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের জন্য বিজিবি আহ্বান জানালেও প্রায় ৩৫ ঘণ্টা (এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) পার হলেও বিএসএফ এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া দেয়নি।
এ ব্যাপারে ৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক (এডি-অপস) কারিমুল ইসলাম ১২ জন ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফ ফেরত নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই অবৈধভাবে ঠেলে পাঠানো বা পুশইন মেনে নেব না। উপযুক্ত প্রমাণসহ নিয়মের মধ্যে ফেরত পাঠাতে বিএসএফকে বলা হয়েছে। পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফকে একাধিকবার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা সাড়া দিচ্ছে না। সীমান্ত সুরক্ষায় আমরা বিজিবি জিরো টলারেন্স।’