ভাঙো ভাঙো শৃঙ্খল যত—শোনো, বজ্র কাঁপে মহাকাশে!
অন্ধকারের গহ্বর হতে আজ আমি উঠেছি মুক্তির আশে।
আমি আগুন! আমি ঝড়!
আমি তুফানের গান, মুখে দাঁড়িয়ে তবু করি বিজয় ঘোষণা মহান।
বাঁধন ছিঁড়ে চাই যে মুক্তি, চাই যে রক্তের দাম,
শোষণ-জরা-অন্যায়ের বুক চিরে উঠুক ঘনঘোর ঘন ঘাম।
যেখানে অশ্রু, সেখানে আমি হব অগ্নিশিখা,
যেখানে শোষণ, সেখানে আমি হব বজ্রিকা।
ফাঁসির মঞ্চে হেসে উঠি, বলি—জীবন ভয় নাহি,
মৃত্যুর চেয়েও বড় মুক্তি, সে মুক্তি আমি চাই!
আমি সেই গানের ঝংকার,যা কাঁপায় দুনিয়ার অন্তরাল।
আমি সেই রক্তের ঢেউ,যা ভাসায় অন্যায়, ভাঙে শৃঙ্খল জাল।
ওরে মানব, ওরে নবীন,তোর রক্তে আগুন জ্বালো,
শিকল-শেকল গুঁড়িয়ে দাও,তোর কণ্ঠে ঝড় তুলো।
শ্রমিকের ঘামে, কৃষকের গানে,রক্তে লেখা হোক মুক্তি,
দাসের বুকের আর্তনাদে জ্বলে উঠুক বিদ্যুৎ-শক্তি।
মুক্তি চাই! মুক্তি চাই!
এ শুধু আমার নয়—এ গান গায় প্রতিটি প্রাণ,
যারা আজ বেঁচে রয়।
সূর্য-চন্দ্র-নক্ষত্র সব গাইছে মুক্তির গান,
প্রকৃতির বুকে ধ্বনিত হয় বিদ্রোহীরই ঘোষণা মহান।
ভাঙো ভাঙো শৃঙ্খল যত,দাও মানবের জয়ধ্বনি,
রক্তে রাঙাও ধরণীকে,এসো নবীন, এসো নবনী।
মৃত্যু যদি আসে পথে,তবু হাসি ঠোঁটে রয়,
মুক্তির মন্ত্র বুকের ভেতর—মুক্তি চাই! মুক্তি চাই!