কলমেঃ সৈয়দা রাজিয়া সুলতানা (শিম্মা)
মাছরাঙা সূর্য তীর্যক ব্যাঙ্গ হেসে বললো পাগল,
তুমি তাবৎ দুনিয়া কে পাগল বানিয়েছো?
আমি শুধু প্রমীলার পাগল।
এটা কে পাগলামি বলে না বলে অপেক্ষা।
আজকে কতো দিন হলো
প্রমীলা চলে গেলো, আর আমি
করতে থাকলাম অপেক্ষা।
প্রথম যে দিন প্রমীলা ডিভোর্স
চেয়ে চলে গেলো,
অবাক হয়ে চোখে চেয়ে ছিলাম।
হ্যালো, হু, বলো?
ধৈর্য ধরো পাঠিয়ে দিবো ডিভোর্স লেটার।
না, তা বলছি না, একটু তোমার
বাসায় আসতে পারি?
এটা এখনো তোমারও বাসা!
পাশের রুমে যাও
ওখানে সব রেডি করা আছে।
অনেকটাই বেলা হয়ে গেছে
কিন্তু প্রমীলা ঘুম থেকে ওঠে না।
ও আসলেও অজ্ঞান হয়ে গেছে।
ক্লিনিকে ভর্তি করে দিলাম।
জানতে পারলাম ওর
ক্লোন ক্যান্সার হয়েছে লাস্ট স্টেজ।
জ্ঞান ফিরলো দুই দিন পরে।
আমি এখানে থাকবো না,
এখানে শুধু লাশের আর মেডিসিনের গন্ধ।
আমি তোমার গন্ধ চাই, তোমার স্পর্শ চাই।
আমার একটা অনুরোধ শুনবে?
আমাকে একটু বৃষ্টিতে ভিজাবে?
প্রমী, তুমি একটু সুস্থ হও তারপর বৃষ্টিতে ভিজও।
না, আজকেই তুমি ধরে থাকবে
আমি তুমি এক সাথে ভিজবো।
জড়িয়ে ধরো আমাকে তুমি।
আস্তে আস্তে নেতিয়ে পড়লো প্রমী।
প্রমী, প্রমী, প্র — মী।
প্রমীলা আর সাড়া দিলো না।
চলে গেলো আমার প্রাণপ্রিয় স্ত্রী প্রমীলা।
আমি ওর শেষস্পর্শ নিয়ে অপেক্ষা করছি।