কলমেঃ কাকলি রানী ঘোষ
আঁখি চঞ্চল শোভে বনতল গহীন অরণ্য মাঝে,
ফোটে শতদল ধরনী তরুতল মধূর ভাষিনী সাজে।
কুন্ঠীত নয়ন খোঁজে সারাক্ষণ মোহিনী সুর দোহে,
মরি মরি মরি মর মর ধ্বনি পথপানে চাহি তোহে।
সুরে সুরে গাঁথি বনমালা বীথি পাপড়ি ফুল শয্যা,
চন্দ্র শোভে নীলাম্বরে অগনিত তাঁরা আঁধারেতে ঝঞ্ঝা।
নীরব নীথর ধরণীর সুবিমল বসন্ত জাগে বনে,
রাঙা পলাশে পদ্ম সরোবর নয়নাভিরাম ভনে।
ভ্রমের গুঞ্জন ফুলে ফুলে দল ঝর্নার কুল কুল রবে,
নয়ন মাঝে স্বপ্ন জাগে ফাগুন বহে শাখে পল্লবে।
নীল দিগন্তে অরুণ আলোকে পাখির কলতানে,
বসন্তের ছোঁয়া গাঁথা বরণমালা সজ্জিত বাতায়নে।
ফাগুনের হওয়া লাগলো যে দোলা ময়ূর পুচ্ছ মেলে,
বনে বনে বনে ফাগুন অনুরাগে কুহু কুহু মহুয়া ঢেলে।
সখি, শ্যাম সুন্দর আসিবে তমাল তল রাসেশ্বরী অভিসারে।
রঙের খেলায় মোহন বাঁশি বাজিলো হৃদয় ভারে।
ঝুলন দোল দুলিবে রায় কিশোর আকূল পরানী তাহে
ঝিকিমিকি চাঁদ পূর্ণিমার চন্দ্রিমা বেণীমাধব তনুতে বাহে।
মনের গহীনে রংধনু রাঙে হোলি খেলায় মৌউ বন মধু করে,
পূর্ণ এ ধরণী বসন্ত বরণে ফাগুনের আগুন আকুলিছে
লহরে।