রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের রামপালের ডাকরা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত দুই পক্ষের বিরোধ ও উত্তেজনার অভিযোগ উঠেছে। সভাপতি পদে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে বসানোকে কেন্দ্র করেই এ টানাপোড়েন বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি।
তবে বিষয়টি এখন শুধু ‘কে সভাপতি হবেন’—এ প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। বিদ্যালয়ের জমি, মার্কেট, আয়-ব্যয়, অতীতের সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং বর্তমান প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ফলে সচেতন মহলের প্রশ্ন—কমিটি গঠন, নাকি সম্পদের নিয়ন্ত্রণ?
পুরোনো অভিযোগ, নতুন করে প্রশ্ন
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিগত সরকারের সময়ে বিদ্যালয়ের তৎকালীন সভাপতি বাবুল চেয়ারম্যানের প্রভাব বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় ছিল। ওই সময় বিদ্যালয়ের জমি ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভোগদখলের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নথিভিত্তিক সত্যতা নিশ্চিত হয়নি। ফলে বিদ্যালয়ের জমির রেকর্ড, ইজারা বা ভোগদখলের কাগজপত্র, কমিটির রেজুলেশন এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
প্রধান শিক্ষককে ঘিরেও অভিযোগ
সাম্প্রতিক কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু সমীরণ সাহার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। অভিযোগ রয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিয়মিত দায়িত্ব পালনে সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তিনি বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ ব্যক্তিগত ব্যবহারে রাখছেন এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন। পাশাপাশি কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় তিনি নিজের স্বার্থে প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া তিনি নিজেকে একজন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন—এমন অভিযোগও স্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে।
প্রধান শিক্ষকের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা, শ্রেণিকক্ষ ব্যবহারের অনুমতি, বেতন-ভাতা গ্রহণের বিধিগত বৈধতা এবং কমিটি গঠনে তাঁর ভূমিকা— অনৈতিক কর্মকান্ডে মামলা কারাগারে যান প্রধান শিক্ষক বাবু সমীরণ সাহা সবকিছু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি ও বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
২০ আগস্টের বৈঠক ঘিরে উত্তেজনা
স্থানীয়দের দাবি, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আনুমানিক সকাল ১১টার দিকে কমিটি-সংক্রান্ত সর্বশেষ বৈঠককে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে বৈঠকে কী ঘটেছে এবং কোনো পক্ষ নিয়মবহির্ভূত চাপ প্রয়োগ করেছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।
প্রশাসনের কাছে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর চায় জনসাধারণ
বিদ্যালয়ের জমি বর্তমানে কার দখলে? কোনো জমি বা সম্পদ ইজারা দেওয়া হলে অনুমোদন কীভাবে হয়েছে? আয় বিদ্যালয়ের হিসাবে জমা হয়েছে কি না? প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কোনো সরকারি মেডিকেল বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত রয়েছে কি না? শ্রেণিকক্ষ ব্যক্তিগত ব্যবহারের অনুমতি কে দিয়েছে? আর কমিটি গঠনে কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব কাজ করছে কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তর বক্তব্যে নয়—নথিপত্র যাচাই করেই বের করা সম্ভব।
তাই বাগেরহাট জেলা প্রশাসন, রামপাল উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, জেলা শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রয়োজনে বিদ্যালয়ের জমি-সম্পদের রেকর্ড, আয়-ব্যয়ের হিসাব, কমিটির কার্যবিবরণী, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব ও বেতন-ভাতা সংক্রান্ত নথি এবং বর্তমান কমিটি গঠন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
সভাপতির চেয়ার কার দখলে যাবে—এটি মূল প্রশ্ন নয়। মূল প্রশ্ন হলো, ডাকরা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে পরিচালিত হবে?
অভিযোগ সত্য হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা হোক, আর অভিযোগ অসত্য হলে নিরপেক্ষ তদন্তেই তা পরিষ্কার হোক।
কমিটি গঠন হোক বিধি অনুযায়ী, সম্পদের হিসাব হোক স্বচ্ছ এবং বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হোক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাবে নয়- শিক্ষার্থীদের স্বার্থে।