কলমে: উম্মে কুলসুম খন্দকার
সবাই ভাবে কুলসুম নাকি খুব শক্ত মেয়ে। কেমন চঞ্চল তার চলা ফেরা
হাসে, কাজ করে, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আছে—এই তো জীবন সফল!
কিন্তু কেউ জানে না, সে রাতের পর রাত জেগে কাটায়।
নিরবে কাঁদে। কারণ তার কষ্টের কোনো শব্দ নেই, কেউ শোনে না। কেউ বুঝতেও চায়না তার ভিতর টা কষ্টে ভরা,,,
ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছে,
“মেয়ে হয়ে বেশি স্বপ্ন দেখিস না, ”
তবুও সে স্বপ্ন দেখেছিল—একদিন নিজে কিছু হবে।
নিজের পরিচয় হবে,
কেউ বোঝেনি, কুলসুম কোনো রাজপুত্রের আশা করেনি,
সে শুধু একটু মর্যাদা চেয়েছিল, একটু ভালোবাসা, একটু স্বাধীনতা। অবুঝ বয়সে জীবনে বড় এক মোড় চলে এলো যা থেকে শুরু হলো নতুন পথে হাটা, কিন্তু ভাবতেই পারিনি যে অতি দ্রুত উলট পালট হয়ে যাবে সব, যে কিনা একদিন স্বপ্ন দেখিয়ে ছিলো একদিন সেই মুখ ফিরিয়ে নিল।
অন্য কারো কথায় বিশ্বাস করা শুরু করলো। কারণ সে ছিল দেশের বাহিরে।
আসলে কুলসুম? ছিল শুধু একটা স্বপ্নে ডুবে থাকা একটি সহজ সরল মেয়ে।কিন্তু কিছু মানুষের ব্যবহার দেখতে দেখতে কুলসুম নিজেকে অন্য এক কুলসুমে পরিনত করলো, এরপর সমাজে তার দিকে সুন্দর করে আঙ্গুল তুলে দিলো খুব চেনা মুখগুলো।
সম্মান ভেঙে পড়ে—
কুলসুমের জীবনটা যেন একটা ভাঙা আয়নার মতো হয়ে গেল।
সবকিছু আছে, তবুও কিছুই নেই।
তবুও সে হার মানেনি।
কাঁদতে কাঁদতে নিজেকে শক্ত করেছে।
আগেই সেলাই শিখে রেখে ছিল কাজ নিয়েছে কিছু করার জন্য, তারপর কিছুটা ভালোভাবে দিন কাটে,
কিন্তু আজও যখন আয়নায় মুখ দেখে,
তাকে প্রশ্ন করে—
“এই আমি কি সেই কুলসুম, যে একদিন চোখ ভরে স্বপ্ন দেখত?”
জবাব আসে না।
শুধু একটা নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাস,
কিছু কষ্ট আছে যেগুলোর শব্দ হয় না,
শুধু মন জানে—
“আমি বেঁচে আছি, কিন্তু আমি আর আমি নাই,,,