• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু ২০১৭ সালে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, ৯ বছর পর সেই রাণীশংকৈলের ইউএনও গোলাম রব্বানী ডিমলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ধনঞ্জয় রায়কে শুভেচ্ছা খুলনা আর্ট একাডেমির সিংগাইরে দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে অবৈধ চায়না জালের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: ত্রাণমন্ত্রী দুলু নিয়ামতপুরে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু আজকের জনকথা’য় সংবাদ প্রকাশের পর প্রক্সি দেওয়া শিক্ষক জুয়েল রানা সাময়িক বরখাস্ত সিংগাইরে অসহায় দু:স্থ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ সিংগাইরে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত

জগন্নাথপুরে বন কর্মকর্তার সামনেই মেছো বাঘ পিটিয়ে মারল জনতা

Reporter Name / ২৪ Time View
Update : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

মোহাম্মদ সুজন মিয়া, জগন্নাথপুর

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভাধীন ছিলিমপুর এলাকায় গাছ থেকে নামানোর পর বনবিভাগের কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই স্থানীয় জনতার প্রহারে একটি মেছো বাঘের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে ছিলিমপুর গ্রামের মরহুম আব্দুল আহাদ চৌধুরীর বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বন বিভাগের গাফিলতি ও চরম উদ্ধার-ব্যর্থতার কারণেই ক্ষুব্ধ জনতা প্রাণীটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ির কেয়ারটেকার ফিরোজ মিয়া উঠানের আমগাছে প্রাণীটি দেখতে পান। মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক এলাকাবাসী সেখানে ভিড় জমান। পরে সুনামগঞ্জ জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্টার) মোঃ আনিসুর রহমানকে বিষয়টি জানানো হলে দুপুর ১২টার দিকে তিনি এবং জগন্নাথপুর থানার এসআই অনিক রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ভিড় সামলে লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিলেও ফরেস্টার আনিসুর রহমান প্রাণীটিকে উদ্ধারে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারেননি।

বন বিভাগের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি বা কোনো উদ্ধার সরঞ্জাম ছিল না। এমনকি প্রাণীটি ধরার জন্য ওই কর্মকর্তা কেবল একটি চটের ব্যাগ নিয়ে আসেন, যা দেখে উপস্থিত জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রাণীটিকে গাছ থেকে নিচে নামায়।
গাছ থেকে নামার পরই মেছো বাঘটি দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় উপস্থিত জনতার একাংশ লাঠি, টেঁটা ও ফিকল নিয়ে প্রাণীটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। উপর্যুপরি হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণীটির মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সাফরোজ ইসলাম মুন্না আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, জেলা বন বিভাগের সহকারী কর্মকর্তা খবর পেয়েও আধুনিক কোনো সরঞ্জাম বা প্রয়োজনীয় কর্মী ছাড়া শুধু একটি চটের ব্যাগ নিয়ে প্রাণীটি ধরতে চলে আসেন এবং স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

বন্যপ্রাণী রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন দায়িত্বহীনতায় স্থানীয় সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বন বিভাগ সময়মতো পেশাদার ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিলে নিরীহ প্রাণীটির প্রাণ রক্ষা পেত।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, মেছো বাঘটিকে অনেকে বাঘ ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। বিষয়টি জানানো মাত্রই আমি সুনামগঞ্জ বনবিভাগে যোগাযোগ করি। তবে প্রাণীটিকে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা অত্যন্ত দুঃখজনক।

ঘটনার বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আনিসুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd