জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের ভোলারচড়ার নুরুল ইসলামের স্ত্রী রুমা (২৪) ও ময়েশপুর গ্রামের ইসলামের ছেলে মেহেদী (৩৮) গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০:২০ মিনিটের সময় প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী রুমা বেগমের ঘরে প্রবেশ ও অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকার জন্য গ্রামবাসীর হাতে আটক হন। যার ১:৫০ মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায় প্রায় শতাধিক গ্রামবাসীর হাতে আটক হন রুমা ও মেহেদী। এরপর ভিডিওতে একপর্যায়ে মেহেদীর বড়ভাই মেহেদীকে জনতার সামনে মারধর করে, সেই সাথে মেয়েকেও চড়-থাপ্পড় মারতে দেখা যায়। ঘটনার এক পর্যায়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মী উপস্থিত হলে আলোচনার এক পর্যায়ে মেহেদী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এরপর বাধে বিপত্তি।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রুমার স্বামী নুরুল প্রবাসে থাকা ও রুমার বাড়ি আলাদা হওয়ার কারণে বিগত সময় ধরে একাধিক অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। একই গ্রামের মফিজ উদ্দিন (৫৮) জানান, শুধু মেহেদী নয় গ্রামের একাধিক ছেলেদের সাথে সখ্যতা করার চেষ্টা করে। বিগত সময়ে রুমার বাড়িতে প্রতিনিয়ত দূর-দূরান্ত থেকে অনেক ছেলেরা মোটরসাইকেল নিয়ে আসা-যাওয়া করতেন। এসবে রুমার শ্বশুর বাধা দিলে পরবর্তীতে রুমা নিজের শ্বশুরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। এক পর্যায়ে রুমা স্বামীর কাছ থেকে আলাদা হলেও পরে আবার এক হন।
মফিজ উদ্দিন আরও জানান, বিগত সময়ে রুমা উপজেলার বটতলী বাজারে ভাড়া বাড়িতে থাকা অবস্থায় নানামুখী অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অপরদিকে এরশাদুল আলম (৪৮), রুমার স্বামী নুরুল ইসলামের চাচাতো ভাই। তিনি জানান, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রথমে তিনিই মেহেদীকে রুমার ঘরে প্রবেশ ও দীর্ঘ সময় রুমের দরজা বন্ধ রাখতে দেখেন। পরবর্তীতে গ্রামের একাধিক ব্যক্তির উপস্থিতিতে তাদের ঘরের ভেতর থেকে বের করার সময় মেহেদীর শরীরের জামা-কাপড় এলোমেলো দেখতে পান বলে দাবি করেন।
অপরদিকে সাগর (২৮) জানান, মূলত রুমা গ্রামের একটা ভাইরাস। একাধিক ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। সাগর আরও জানান তিনি মূলত এটাকে ব্যবসায় পরিণত করেছে।
এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করা ও ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে মেহেদীকে পালিয়ে দেওয়ার বিষয় নিয়ে এলাকাবাসী কঠোর হলে রুমা ও মেহেদী তাদের পরিবার এক হয়ে গ্রামের মানুষের উপর মামলা করার হুমকি দিয়ে থাকেন।(যার কল রেকর্ড সাংবাদিক এর হাতে সংরক্ষিত)
উক্ত বিষয়ের সত্যতা ৩ জন সাংবাদিক জানার চেষ্টা করলে সাংবাদিকদের রুমা কোনো তথ্য দিতে রাজি ছিলেন না। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে রুমার বাড়িতে ১ জন বয়স্ক পুরুষ ও ২ জন নারীর সামনে সাংবাদিকগণ ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাইলে রুমা সরাসরি প্রবাসী স্বামী নুরুল ইসলামকে ফোন দিয়ে কথা বলেন। এবং নুরুল ইসলাম বলেন, কোনোভাবেই যেন সাংবাদিকদের তথ্য না দেয়। যদি দিয়ে থাকে তাহলে রুমার সমস্যা হবে।
(সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য কথোপকথন এর ভিডিও সংরক্ষিত)
অপরদিকে মেহেদীর বাড়িতে গেলে সরাসরি মেহেদীর সাথে দেখা হয়নি। তবে মেহেদীর বড় ভাই জানান, রুমা মূলত সম্পর্কে মেহেদীর খালাতো বোন। সেই সুবাদে তার রাত ১০টার সময় কিছু ওষুধ দিতে রুমার বাড়িতে যান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে রুমার ফোনে কথা হয়। অনেক কৌশলে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চেষ্টা করলেও রুমা অধিক চালাকির সাথে কথা বলতে থাকে। সেই সাথে বারবার ম্যানেজ করতে চান যেন কোনোভাবেই ভিডিও নিউজ না করা হয়। একই সাথে সাংবাদিকদের দায়িত্ব দেন গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে যে ভিডিও ধারণ করেছিলেন এলাকাবাসী সেই ভিডিওগুলো যেন ডিলিট করার ব্যবস্থা করা হয়।
তথ্যের এক পর্যায়ে রুমার সাপোর্ট নিয়ে সাংবাদিকরা কথা বললেও সত্য বের করতে ব্যর্থ হন। এরপর রুমা বলেন, “অন্য দুই জনকে নাস্তা করতে কি ৫০০ টাকা দেব ভাই আর যারা আমার বিরুদ্ধে যাচ্ছে তাদের উপর কি মানহানির মামলা করব” বলে কথোপকথন করেন। যার ১৩ মিনিটের কল রেকর্ড সাংবাদিকের হাতে সংরক্ষিত।
অপরদিকে তথ্য সংগ্রহ শেষ করে ৩ জন সাংবাদিক যখন সত্য তুলে ধরার চেষ্টা করবে এমন সংবাদ পাওয়ার পর গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্যে থেকে একজন সাংবাদিক রাশেদ ইসলামকে ফোন দিয়ে প্রেসার দিতে থাকেন। সেই সাথে নিউজ পাবলিক করলে ভালো হবে না বলেও ফোনে বলেন।
পরবর্তীতে রুমা ও ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে উপস্থিত সাংবাদিক ও মেহেদীর পরিবারসহ কয়েকজন মিলে গ্রামের একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ এবং ৩ জন সাংবাদিক সত্যি তুলে ধরলে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও মিথ্যা হয়রানির অভিযোগ করবেন বলেও মন্তব্য করেন।
কথার এক পর্যায়ে সাংবাদিক রাশেদ জানান, “আমি সত্যি তুলে ধরব। এতে কোনো নেতা, কোনো সাংবাদিক কি করতে পারে সেটি আমিও দেখব” বলে অপর সাংবাদিককে ফোনে বলেন।