স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী
পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং মানুষের মধ্যে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলার বার্তা নিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া পর্যন্ত দীর্ঘ পদযাত্রায় নেমেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ শিক্ষক ফাহিম মুনতাসির।
গত ১০ জুলাই টেকনাফ থেকে তিনজনের দল নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও ফেনী পৌঁছানোর পর দুই সহযাত্রী ব্যক্তিগত কারণে ফিরে যান। এরপর থেকে একাই নির্ধারিত গন্তব্যের পথে হাঁটছেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়ার বাসিন্দা ফাহিম মুনতাসির সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করছেন। পাশাপাশি তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সোনালী সকাল’-এর সভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যুব প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলাধার রক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেও তিনি যুক্ত রয়েছেন।
নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত এ পদযাত্রায় টেকনাফ, উখিয়া, চকরিয়া, কেরানীহাট, পতেঙ্গা, সীতাকুণ্ড, মহিপাল, কুমিল্লা, দাউদকান্দি, ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল, বগুড়া ও রংপুর অতিক্রম করে যাত্রার ১৯তম দিনে তিনি নীলফামারীতে পৌঁছান। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সেখান থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে আবারও যাত্রা শুরু করেন। প্রতিঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তেঁতুলিয়ায় পৌঁছানোর আশা করছেন তিনি।
নীলফামারীতে অবস্থানকালে ফাহিম মুনতাসির বলেন, সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার কদম হাঁটা জরুরি। কিন্তু অতিরিক্ত যানবাহননির্ভর জীবনধারা মানুষের শারীরিক সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। তাই তিনি সবাইকে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তার মতে, ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে হাঁটার চর্চা বাড়লে জ্বালানির অপচয় ও বায়ুদূষণ কমবে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পেয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বিচারে সড়কের পাশের গাছ কাটা, জলাশয় ভরাট, পাখির আবাসস্থল ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণীর ওপর হামলা পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাপ ও হাতিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী হত্যা এবং তাদের আবাসস্থল ধ্বংস বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, বন্যপ্রাণী পাচার রোধ এবং পরিবেশ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
ফাহিম জানান, পুরো পদযাত্রার ব্যয় তিনি নিজেই বহন করছেন। পথে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পরিচিতজন, বন্ধু ও স্বজনদের বাড়িতে রাত্রিযাপন করছেন। তার বিশ্বাস, এই উদ্যোগ দেখে যদি একজন মানুষও পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হন, তাহলেই তার দীর্ঘ পদযাত্রা সার্থক হবে।