স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৯ মার্চ) দুপুরে উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের একতা বাজার ও তেলিবাজার সংলগ্ন তিস্তা নদীর চরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বোমা মেশিন ব্যবহার করে তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছিল। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে নানা অভিযোগ উঠলে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেন।
এরই মধ্যে বুধবার সকালে আবারও নদী থেকে পাথর উত্তোলনের খবর পেয়ে চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন গ্রাম পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় পাথর উত্তোলনকারী চক্রের সদস্যরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালালে পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন। এছাড়া সাবেক ইউনিয়ন জামায়াত নেতা আফসার আলী, আনোয়ার হোসেন, লোকমান, পুলিশ সদস্য রবিউল ইসলাম ও ঠাকুরদাস, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের নীলফামারী প্রতিনিধি আরেফিন এবং ক্যামেরাম্যান আবু রায়হানসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
আহতদের ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত চেয়ারম্যানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ সময় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি উত্তেজিত পাথর উত্তোলনকারীরা পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে বলেও জানা গেছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শওকত আলী সরকার বলেন, অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গেলে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।