• রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
সাতকানিয়ার প্রভাবশালী আরেফাগং এর ৩ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী কারাগারে, মা-মেয়ে পলাতক চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ১ম কমিউনিটি কাবাডি টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত ‘গণভোটের রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে’ —আল্লামা মামুনুল হক আধুনিক ও জবাবদিহিতামূলক রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদ গড়ার প্রত্যয়ে সোহরাব আলী সিংড়ায় হাতিয়ান্দহ ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনের হাওয়া, মুখোমুখি প্রার্থী আব্দুল রশিদ পাবনার ফরিদপুরে সাকিব হত্যার দ্রুত বিচার ও আসামির ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন গরু চুরির আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে ডিমলার কৃষকদের অল টাইম ক্লিন সামাজিক সংগঠন এর উদ্যোগে জগন্নাথপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা সিংগাইরে গোল্ডকাপের ট্রফি উম্মোচন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত ৭ দফা দাবি আদায়ে নওগাঁয় দলিল লেখকদের সমাবেশ

ডিমলা শুটিবাড়ি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

Reporter Name / ২২০ Time View
Update : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

 

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বাবুরহাট জিসি-ডালিয়া আরএন্ডএইচ সড়ক ভায়া শুটিবাড়ি সড়কের সংস্কারকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে রাবিশ মিশ্রিত খোয়া, ভাঙা ইট ও পুরোনো কার্পেটিং পুনর্ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের “গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ” কর্মসূচির আওতায় সমায়ান্তর রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের অধীনে বাবুরহাট জিসি-ডালিয়া আরএন্ডএইচ সড়কের (চেইনেজ: ৭৫০০-৮৩৮০ এবং ৯১০০-১১৪০০ মিটার) সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্যাকেজ নম্বর: LGED/GOBM/Nil-25-26/RW-35
টেন্ডার আইডি: ১১৫৬১৫৮
প্রাক্কলিত ব্যয়: ২ কোটি ২৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩১৫ টাকা
চুক্তিমূল্য: ২ কোটি ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৯ টাকা ২৫ পয়সা।
কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে নীলফামারী সদর উপজেলার মসজিদপাড়া এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিদ্দি ইঞ্জিনিয়ারিং মার্কস। কার্যাদেশ অনুযায়ী গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ কাজ শুরু হয়ে ১৮ মে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জুনের শেষ সপ্তাহেও কাজ চলমান রয়েছে।
সরেজমিনে যা দেখা গেছে
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত কার্পেটিং তুলে তা পুনরায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া রাবিশ মিশ্রিত নিম্নমানের খোয়া দিয়ে বেজ প্রস্তুতের কাজ চলছে। সড়কের দুই পাশে রেজিংয়ের কাজে এক নম্বর ইটের পরিবর্তে ভাঙা ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কাজ চলাকালে এলজিইডির কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে তদারকিতে দেখা যায়নি। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করছে।
ক্ষোভ স্থানীয়দের
স্থানীয় বাসিন্দা হযরত আলী বলেন,
“দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোর মান খুবই নিম্নমানের। এভাবে কাজ করলে সড়কটি বেশিদিন টিকবে না।
মোটরসাইকেল চালক রাসেল মিয়া বলেন,
ঠিকাদার যে উপকরণ দিয়ে কাজ করছেন, তাতে সরকারি টাকার অপচয় ছাড়া আর কিছুই হবে না।
স্থানীয় মমিনুর রহমান, খোরশেদ আলম, আয়নাল হক ও জাকির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, এক নম্বর খোয়ার পরিবর্তে রাবিশ মিশ্রিত খোয়া এবং রেজিংয়ের কাজে ভাঙা ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানান।
তথ্য দিতে গড়িমসির অভিযোগ
প্রকল্পের দরপত্রসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ডিমলা উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ে দুই দিন ঘুরেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কখনো কর্মকর্তার বদলির অজুহাত, আবার কখনো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কথা বলে তথ্য দিতে গড়িমসি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিদ্দি ইঞ্জিনিয়ারিং মার্কসের প্রতিনিধির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলজিইডির নীলফামারী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ হাসানের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমান বলেন,
“সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। মূল কার্পেটিংয়ের আগে যে খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, তার গুণগত মানও যাচাই করা হবে।”
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন,
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত সড়কটি পরিদর্শন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও কাজের ধীরগতির বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি মানদণ্ড অনুযায়ী সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd