হারাধন সূত্রধর, পূর্বধলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:
জনস্বার্থ রক্ষা, বাজার মনিটরিং এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। গত ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পরিচালিত এসব অভিযানে জরিমানা, অবৈধ বালু জব্দ এবং মাদকসেবীকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী পরিচালিত অভিযানগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
নেত্রকোণা সদর (চল্লিশা এলাকা): চালের মোড়কীকরণে পাটজাত ব্যাগ ব্যবহার না করায় ‘তন্ময় অ্যান্ড তাহমিদ অটোমেটিক রাইস মিল’-কে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’ অনুযায়ী ৮,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তোফায়েল আহমেদ।
কলমাকান্দা উপজেলা (কৈলাটি ইউনিয়ন): কৈলাটি ইউনিয়নের শামপুর হিলফুল ফুজুল দাখিল মাদরাসা ও মৌতল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ২টি মামলা দায়ের করা হয়। এ সময় আনুমানিক ৫,৭০০ ঘনফুট বালু জব্দ করে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার জিম্মায় দেওয়া হয়। এছাড়া ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯’ ভঙ্গের দায়ে আরও একটি মামলায় ১,০০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন কলমাকান্দার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শামছুজ্জামান আসিফ।
কেন্দুয়া উপজেলা (সান্দিকোনা ইউনিয়ন): সাহিত্যপুর বাজারে ভাউচার ছাড়া সার বিক্রি এবং বিতরণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের দায়ে এক বিসিআইসি সার ডিলারকে ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’ অনুযায়ী ২০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী।
কেন্দুয়া উপজেলা (গণ্ডা ইউনিয়ন): বীরমাইঝাটি এলাকায় গাঁজা ও মাদক সেবনের উপকরণসহ একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার করলে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী একটি মামলায় অর্থদণ্ডসহ তাকে ৩ (তিন) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী।
জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, জনস্বার্থ সংরক্ষণ, ভোক্তাস্বার্থ রক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নেত্রকোণা জেলা প্রশাসনের এ ধরনের মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত থাকবে।