হারাধন সূত্রধর, পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সড়কের পাশে রোপণ করা গাছের চারা উপড়ে ফেলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ ঘটনার পেছনে যুক্ত ‘বৃক্ষহত্যাকারীদের’ শনাক্ত করে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কলমাকান্দা-ঠাকুরাকোনা সড়কের পাশে পুনরায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ডেপুটি স্পিকার এ আল্টিমেটাম দেন। এর আগে গত ২৫ আগস্ট রাতে উপজেলার বামনীকোণা এলাকায় সড়কের পাশে রোপণ করা ৩৫টি গাছ উপড়ে ফেলে এবং বেশ কয়েকটি চারা ভেঙে ফেলে দুর্বৃত্তরা। উল্লেখ্য, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে এসব গাছ রোপণ করা হয়েছিল।
ঘটনাস্থলে পুনঃবৃক্ষরোপণ শেষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “গাছ শুধু গাছ নয়, এটি একটি জীবন। আমি বলব, এই গাছগুলোকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমার এবং পুরো এলাকার জন্য এটি অত্যন্ত বেদনাবিধুর এক দিন।”
প্রশাসনের ধীরগতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “ঘটনার দুই দিন পার হয়ে গেলেও স্থানীয় প্রশাসন কাউকেই শনাক্ত করতে পারেনি। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই বৃক্ষহত্যাকারীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।” একই সঙ্গে এই নিন্দনীয় ঘটনার পেছনে কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা অপউদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা-ও গভীরভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার জোর তাগিদ দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “শিশুর জন্মদিনসহ যেকোনো বিশেষ দিন স্মরণীয় করে রাখতে সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। সরকারের আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তা শুধু কাগজ-কলমে নয়, স্থানীয় পর্যায়ে শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নেত্রকোনায় প্রয়োজনের তুলনায় বৃক্ষের পরিমাণ অনেক কম। সড়কের পাশে পর্যাপ্ত খালি জায়গা থাকা সত্ত্বেও কেন গাছ লাগানো হচ্ছে না, তা প্রশাসনকে খতিয়ে দেখতে হবে।
সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহির মুখোমুখি করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সরকারি কর্মসূচির অধীনে কতটি গাছ লাগানো হলো আর বাস্তবে কতটি টিকে থাকল—সংবাদকর্মীদের সেই বাস্তবচিত্র সাহসিকতার সাথে তুলে ধরা উচিত।
উক্ত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।