ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বন্দকী জমির পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে এক প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, মারধর, শ্লীলতাহানি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে অভিযুক্তরা নিজেদের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে প্রবাসী পরিবারকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে উপজেলার উত্তর তিতপাড়া (খালুয়াপাড়া) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মামলার বাদী মোঃ ময়েন উদ্দিন (৫৭) জানান, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে ৪ নম্বর আসামি হবিবার রহমান নিকি ও ১৫ নম্বর আসামি মনজিনা বেগম তাদের ১২ বিঘা জমি বন্দক রেখে তার বড় ছেলে প্রবাসী আসাদুল ইসলামের কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। চুক্তি অনুযায়ী জমির ফসলের আয় থেকে ওই টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা টাকা পরিশোধে গড়িমসি করে আসছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাওনা টাকা চাইতে আসাদুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম ও তাদের ভাতিজা রহমত আলী লিখন অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় লাঠি, লোহার রড, ধারালো অস্ত্র ও কোদাল নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে হামলা করে কয়েকজনকে গুরুতর আহত করা হয়।
হামলায় রহমত আলী লিখনের পা ভেঙে যায়, বাবলু রহমানের উরুতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। এছাড়া মিনা আক্তারকে শ্লীলতাহানির পর তার গলায় থাকা প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ময়েন উদ্দিন ডিমলা থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন।
ময়েন উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “আমরা হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছি। অথচ আসামিরা নিজেরাই নিজেদের বাড়িতে ভাঙচুর করে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ সাজানোর চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে প্রধান আসামি আলিনুর ইসলাম ডাম্বুলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অন্য আসামিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ডিমলা থানার ওসি (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।