• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:১০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
জগন্নাথপুরে ঘরজামাই ইমরান মোল্লার মিথ্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পেলেন সাংবাদিক ইয়াকুব মিয়া কেএমপির নতুন কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল কার্যালয় ও পোস্ট অফিসকে ধূমপান ও তামাকমুক্ত ঘোষণা যশোর থেকে গ্রেপ্তার শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে নেওয়া হচ্ছে চট্টগ্রামে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ রাণীশংকৈল স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্মেলনের পরও কমিটি ঘোষণা হয়নি, আলোচনায় পলাশ-মনোয়ার-শাওনসহ কয়েকজন লোহাগাড়া সমিতি চট্টগ্রামের ত্রাণ বিতরণ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত কবিতাঃ  বিচ্ছেদ সাংবাদিকের গায়ে হাত? ধর্মতলা কাঁপিয়ে জবাব দিল সাংবাদিক সমাজ জগন্নাথপুরে প্রথমবারের মতো কৃষি ঋণ বিতরণ শুরু করলো সকল ব্যাংক

বরাদ্দের হিসাব আছে, নেই উন্নয়নের ছাপ; ক্ষোভে ফুঁসছেন পীরগঞ্জবাসী

Reporter Name / ২০ Time View
Update : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

পারভেজ হাসান, বিশেষ প্রতিনিধি ঠাকুরগাও

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের হিসাব আছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের কাগজপত্রও আছে; কিন্তু বাস্তবে সেই উন্নয়নের ছাপ কোথায়—এ প্রশ্ন এখন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার হাজারো মানুষের মুখে মুখে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শত শত কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকলেও উন্নয়নের দৃশ্যমান সুফল না পাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পীরগঞ্জ উপজেলায় মোট সড়কের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ২৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে মাত্র ৩৪৩ কিলোমিটার পাকা এবং ৬৭৮ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। অর্থাৎ উপজেলার অধিকাংশ মানুষ এখনো কাঁচা সড়কের ওপর নির্ভরশীল। অথচ বর্ষা মৌসুম এলেই এসব রাস্তা কাদা ও পানিতে তলিয়ে গিয়ে জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সরেজমিনে উপজেলার ভোমরাদহ, খনগাঁও, দৌলতপুর, বৈরচুনা, হাজীপুর, সেনগাঁও ও জাবরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বহু গ্রামীণ রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও আবার সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রতিবছর সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেই বরাদ্দের প্রতিফলন সাধারণ মানুষ দেখতে পাচ্ছেন না। গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়ক বছরের পর বছর সংস্কারবিহীন পড়ে রয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুরপাড় সৌন্দর্যবর্ধন, কার্যালয় সংস্কার ও অন্যান্য দৃশ্যমান প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সায়েম বলেন, “সরকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়। কিন্তু গ্রামের মানুষ যদি এখনো কাদা মাড়িয়ে চলাচল করে, তাহলে উন্নয়নের সেই অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে—এ প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। মানুষের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর আগেই সৌন্দর্যবর্ধনের প্রকল্পকে গুরুত্ব দেওয়া দুঃখজনক।”

এলাকাবাসী আরও জানান, অনেক গ্রামের রাস্তার এমন বেহাল অবস্থা যে জরুরি রোগী পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্স যেতে চায় না। অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে ফসল পরিবহনেও অতিরিক্ত খরচ ও সময় ব্যয় হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় অর্থনীতিতে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, উন্নয়ন শুধু প্রশাসনিক ভবন বা উপজেলা চত্বরের সৌন্দর্যবর্ধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই হবে, যখন গ্রামের মানুষ নিরাপদ ও টেকসই সড়ক সুবিধা পাবে, শিক্ষার্থী নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ে যেতে পারবে এবং রোগী দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার বলেন, “উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সুবিধার্থে কিছু সংস্কার কাজ করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।”

তবে স্থানীয়দের দাবি, আশ্বাস নয়, এখন প্রয়োজন দৃশ্যমান কাজ। কারণ বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার কথা বলা হলেও অধিকাংশ গ্রামীণ সড়কের অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। ফলে উন্নয়ন বরাদ্দের হিসাব থাকলেও বাস্তব উন্নয়নের ছাপ না থাকায় জনমনে অসন্তোষ ও হতাশা বাড়ছে।

পীরগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, উন্নয়ন পরিকল্পনায় তৃণমূল জনগণের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বেহাল গ্রামীণ সড়ক সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। অন্যথায় উন্নয়নের দাবি কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে, আর ভোগান্তি বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd