মাননীয় প্রধানমন্ত্রী – জনাব তারেক রহমান-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
আসসালামু আলাইকুম ও রাহমাতুল্লাহ
আপনার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন – মহান স্বাধীনতার ঘোষক এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মহানায়ক। তিনি ছিলেন দূরদর্শী রাষ্ট্র নায়ক।
গভীর দেশপ্রেম ও শিল্প সংস্কৃতির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা বিদ্যমান ছিল।
তিনি ব্যক্তিগতভাবে বই পড়ার প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং মেধা নির্ভর জাতীয়তাবাদী তরুণ প্রজন্ম গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
১৯৭৮ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিষ্ঠাকালীন- ঘোষণাপত্রের ২৮ নম্বর ধারায় বাংলাদেশের বাংলা ভাষা,সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিকাশে বিএনপি’র কর্ম প্রয়াসের কথা বলা হয়।
যা ছিল জাতীয়তাবাদের নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতির রূপান্তর।
১৯৮১ সালের ৮ জুলাই “দৈনিক বাংলা পত্রিকায়”শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের –
“বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ নামে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়, নিবন্ধে তিনি “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের” যে ৭টি মৌলিক বিবেচ্য বিষয়ের কথা বলেন তার অন্যতম বিষয় ছিলো সংস্কৃতি।
তিনি মনে করতেন আমাদের সংস্কৃতি আমাদের দেশীয় কৃষ্টির ধারক ও বাহক।
নিবন্ধে তিনি আরো উল্লেখ করেন আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ-এ দেশের সংস্কৃতিকে দিয়েছে দুর্বার শক্তি।
সংস্কৃতি হল চিৎপ্রকর্ষ – যা মানবীয় বৈশিষ্ট্যের উৎকর্ষ সাধনার অন্যতম হাতিয়ার।
একটি দেশের সাম্য, মানবিক মূল্যবোধ, নীতি নৈতিকতা নির্মাণ, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সভ্যতার সংস্কার, সমাজ, রাষ্ট্রকে বৈষম্য মুক্ত করতে –
শব্দের সিঁড়ি বেয়ে সত্যকে ছুঁয়ে দেখার -অদম্য মনস্তাত্ত্বিক উপলব্ধির শক্তির জন্মদান করে সাহিত্য এবং সংস্কৃতি।
সহস্র সহস্র বছর ধরে কবি/ সাহিত্যিকরা সেই কাজটিই করে আসছেন এবং তারা জীবনকে পুড়িয়ে সৃষ্টি করেন –
বিবেক বিজ্ঞানের শব্দ শৈল্পিকতার তীর্থকেন্দ্র এবং গড়ে তোলেন মানবাধিকার ও মনুষ্যত্বের মনুমেন্ট।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী – জননেতা জনাব তারেক রহমান – আপনার পিতা শহীদ- রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান – বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি অঙ্গীকারের বাস্তব রূপ দান করেন -১৯৭৮ সালের ৬ জুন
দি বাংলা একাডেমি অর্ডিন্যান্স (১৯৭৮), এই অধ্যাদেশটি আজও জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির এক অধ্যাদেশ বলে “বাংলাদেশ শিশু একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন”
তিনিই প্রথম বাংলাদেশে স্বাধীনতা পদক (১৯৭৭) ও একুশে পদক (১৯৭৬) এর প্রবর্তন করেন। এমনই অনেক সৃষ্টিশীল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাঁর স্বরপরিসর
শাসন আমলে- তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে অবদান রেখে গেছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী -আমার প্রসঙ্গের কলেবর বৃদ্ধি করে আপনার বিরক্তি না ঘটিয়ে – আমার মৌলিক আলোচ্য বিষয়বস্তু হলো এটাই-
স্বাধীনতার আজ প্রায় ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও – বাংলাদেশে কবি, লেখক সাহিত্যিক-শিল্পীদের অধিকাংশই অবহেলিত রয়ে গেলো।
অথচ সমগ্র বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে –
হাজার হাজার কবি/সাহিত্যিক/শিল্পী রয়েছেন – যারা তাঁদের মেধা ও সৃজনশীলতা দিয়ে কলম যোদ্ধা/ শব্দযোদ্ধা হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং
ঐতিহাসিকভাবে তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আজ অব্দি সভ্যতার সংস্কারক হিসেবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবদান রেখে চলছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী- বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায় অসংখ্য মধ্যবিত্ত/নিম্ন মধ্যবিত্ত অসচ্ছল ও অসুস্থ কবি/ সাহিত্যিক/ শিল্পী রয়েছেন – যারা একপ্রকার মানবেতর জীবনযাপন করছেন কিন্তু আত্মমর্যাদার দায়ে-সমাজে সহজে কারো কাছে হাত পাততে পারেন না, তাঁদের অনেকেই তাঁদের পরিবারের কাছেও থাকেন নিগৃহীত।
★যার জীবন্ত প্রকোষ্ঠ উদাহরণ আমি (লেখক) নিজেই★
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী- মোটাদাগে এই খোলাপত্রে খোলসা সত্য এটাই
বলতে চাই? আপনি আজ একটি নির্দিষ্ট দলের চেয়ারপারসন নন, আপনি দল মত রাজনীতির ঊর্ধ্বে –
সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের জাতীয় নেতা- বিশ্বাস, আস্থা, ভালবাসার শ্রদ্ধার পাত্র এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
আপনার প্রবর্তিত –
“সবার আগে বাংলাদেশ” এবং
আপনার রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনাই – আপনার
দেশপ্রেমের মহানুভবতার উদাহরণ।
যা কিনা আগামীর স্মৃতির স্বর্ণাক্ষরে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম সাক্ষী থাকবে।
মানুষ বেঁচে থাকে তার মানবিক, সৃষ্টিশীল
ও ন্যায়বিচারিক কর্মে এবং মহাকাল তাঁকে অমরত্ব দান করেন – আশা করি আপনার সুদক্ষ বলিষ্ঠ, মানবিক নেতৃত্বেই সুশাসনের বাংলাদেশ তথা “সবার আগে বাংলাদেশ”বিনির্মিত হবে ইনশাআল্লাহ।
তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার সমীপে আমার বিনীত অনুরোধ ও আহবান –
১/ তৃনমুল পর্যায়ের অসচ্ছল কবি/ সাহিত্যিক/ শিল্পীদের জন্যে মাসিক রেশনকার্ড বরাদ্দের ব্যবস্থা করুন।
২/তাঁদের মধ্যে অসুস্থদের স্বাস্থ্যসেবার জন্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের- প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী – রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে –
“স্বাস্থ্যসেবা কার্ড” এর মানবিক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিন। এমনকি প্রতিটি সরকারি হসপিটালে স্বাস্থ্যসেবা কল্পে-
কবি/সংস্কৃতি কর্মীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড গঠন করার বিনীতভাবে অনুরোধ রাখছি।
৩/ বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা/উপজেলা/ ইউনিয়ন প্রশাসন কতৃক তাঁদের তালিকা প্রণয়ন এবং সরকারিভাবে ডাটাবেজ তৈরি করে “সভ্যতার সম্পদ” হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানে – উদ্যোগ গ্রহণের বিনীতভাবে অনুরোধ রাখছি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী – আপনার শাসনামলে বিশেষ করে বাংলাদেশের তৃণমূলের- একটাও কবি / সাহিত্যিক/ শিল্পীরা যেনো অর্থের অভাবে- সু চিকিৎসায় অথবা
বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়? এবং
অসচ্ছলতার দায়ে তাঁদের পরিবার নিয়ে যেনো মানবেতর জীবনযাপন না করতে হয় এটাই আপনার সমীপে আমার চাওয়া।
পরিশেষে বলতে চাই –
আপনার মহানুভবতার জয় হোক এবং বাংলাদেশ সহ সমগ্র পৃথিবীতে একজন “ব্যতিক্রম রাষ্ট্র নায়ক” হিসেবে আপনাকে আমরা দেখতে চাই ইনশাআল্লাহ।
সত্যের জয় হোক, স্বাধীনতার জয় হোক,
জয় হোক তৃণমূল শব্দ ও কন্ঠ যোদ্ধাদের।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার প্রতি, আপনার পরিবারের প্রতি, আপনার মরহুম পিতা-মাতার প্রতি, এবং একাত্তরের সকল শহীদ হতে –
২৪ শে জুলাই যোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি দোয়া এবং বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।
ইতি-নাজমুল তারেক তুষার
রাষ্ট্রের একজন নাগরিক এবং
মনস্তাত্ত্বিক দেশপ্রেমিক।
নির্বাহী সম্পাদক-আজকের জনকথা ও
আহবায়ক – তৃণমূল কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী অধিকার পরিষদ। ১৩/৩/২০২৬