স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী
নীলফামারীর ডিমলায় জ্বালানি তেল সরবরাহকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি, আলোচনা ও সমালোচনা। একদিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর শর্ত আরোপের ঘোষণা, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে সেই সিদ্ধান্তে শিথিলতা এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
জানা যায়, সম্প্রতি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও মোটরসাইকেল চালকদের জন্য হেলমেট ছাড়া কোনো যানবাহনে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে না। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়।
তবে বাস্তবে এর ব্যত্যয় ঘটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই এই নিয়ম মানা হয়নি এবং অনিয়মের মধ্য দিয়েই তেল সরবরাহ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দুপুরে ডিমলার আফতাব ফিলিং স্টেশনে ডিমলা থানার (এসআই পংকজের) উপস্থিতিতে তেল সরবরাহের সময় পুলিশের সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও কিছু নেতাকর্মীর গাড়িকে লাইনে না দাঁড় করিয়ে অন্য পাশ দিয়ে আগে তেল দেওয়া হয়। এতে লাইনে অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ সময় তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এসআই পংকজ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখানে সাংবাদিকের প্রয়োজন নেই। তথ্য লাগলে আমি সাংবাদিককে ডেকে সংবাদ দেব।
এ ধরনের আচরণ ও তেল সরবরাহে বৈষম্যের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, আইন যদি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য না হয়, তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন মানার আগ্রহ কমে যাবে।
এদিকে প্রশাসনের ঘোষণায় প্রথমে কঠোর অবস্থান থাকলেও পরে শর্ত ছাড়াই তেল সরবরাহের বিষয়টি সামনে আসায় জনমনে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—আইন কি শুধুই ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, নাকি বাস্তবায়নে রয়েছে দ্বৈত নীতি?
সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ধারাবাহিকতা না থাকলে আইন প্রয়োগের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায়। তাই তারা সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং কঠোর বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ মানুষ আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে বাস্তবমুখী ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।