মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম
রাত গভীর হচ্ছে, অথচ নিস্তব্ধ নয় চারপাশ। যেন বাতাসেও ভেসে বেড়াচ্ছে এক অদৃশ্য প্রত্যাশা। আর মাত্র একটি রাত, তারপরই সূর্য উঠবে নতুন এক দিনের বার্তা নিয়ে। সেই দিনটি কেবল একটি দিন নয়; এটি গণতন্ত্রের দিন, নাগরিক অধিকার চর্চার দিন, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার দিন। রাত পোহালেই জাতীয় নির্বাচন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা, নানা আলোচনা, মতের ভিন্নতা আর প্রচারণার উত্তাপ পেরিয়ে এখন সময় সিদ্ধান্তের। গ্রামবাংলার মেঠোপথ থেকে শুরু করে শহরের ব্যস্ত রাজপথ। সবখানেই যেন এক অন্যরকম আবহ। চায়ের দোকানের আড্ডা, বাজারের ভিড় কিংবা উঠোনের গল্প। সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটিই, ভোট।
ভোটারদের চোখেমুখে স্পষ্ট আগ্রহের ঝিলিক। প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া তরুণদের হৃদয়ে উচ্ছ্বাস, প্রবীণ ভোটারদের মনে দায়িত্ববোধের গভীরতা। তারা জানেন, একটি ভোট কেবল একটি কাগজে সিল নয়। এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকার, উন্নয়নের পথে একটি পদক্ষেপ, ন্যায় ও নীতির পক্ষে এক দৃঢ় উচ্চারণ।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে সতর্ক অবস্থানে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত নাগরিকদের স্বাগত জানাতে।
এই নির্বাচন কেবল প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নয়। এটি আস্থা, বিশ্বাস ও অংশগ্রহণের প্রতীক। মানুষ চায় একটি গ্রহণযোগ্য ফলাফল, একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, একটি উজ্জ্বল আগামী। তারা চায় এমন নেতৃত্ব, যারা দেশের কল্যাণে নিবেদিত থাকবে, মানুষের পাশে দাঁড়াবে, স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দেবে।
রাতের অন্ধকার ধীরে ধীরে সরে যাবে, ভোরের আলো ফুটবে দিগন্তে। আর সেই আলোয় মানুষ এগিয়ে যাবে ভোটকেন্দ্রের পথে। নীরব অথচ দৃঢ় পদক্ষেপে। হাতে থাকবে জাতীয় পরিচয়পত্র, মনে থাকবে আশা।
গণতন্ত্রের এই মহোৎসবে অংশ নিতে প্রস্তুত গোটা দেশ। রাত পোহালেই শুরু হবে সিদ্ধান্তের দিন। একটি ভোট, একটি স্বপ্ন, একটি ভবিষ্যতের গল্প।