মো. রকিবুল হাসান বিশ্বাস,
সিংগাইর, মানিকগঞ্জ থেকে:
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার মানিকনগর থেকে সিরাজপুর পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা। অধিকাংশ স্থানে পিচ, ইট-বালু ও সুরকি উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।
এলাকাবাসী জানান, কয়েক বছর আগে উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহাবুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন ভাঙা স্থানে নিম্নমানের রাবিশ দিয়ে রাস্তা সংস্কার করা হয়। কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা পাকাকরণের কারণে কয়েক বছরের মধ্যেই সড়কটির এই অবস্থা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, সিংগাইর-মানিকনগর-সিরাজপুর হাট পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে মানিকনগর পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার রাস্তা পাকরণের কাজ হয়েছে। মানিকনগর থেকে সিরাজপুর বাজার পর্যন্ত অংশের কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি দক্ষিণ অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পানি জমে কাদায় একাকার হয়ে যায়। এই বেহাল সড়ক দিয়েই প্রতিদিন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও অফিসগামী লোকজন যাতায়াত করছেন। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু রায়হান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী। খানাখন্দের কারণে সময়মতো স্কুলে যেতে পারি না। দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাই।”
অটোচালক আবু বক্কর, আমির হোসেন ও নায়েব আলী বলেন, “ভাঙাচোরা রাস্তায় অটো চালিয়ে যা আয় হয়, তার সবই গাড়ির পেছনে খরচ হয়ে যায়।”
আইনজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, “রাস্তার অবস্থা এত খারাপ যে খালে পরিণত হয়েছে। ভিজে কাপড় নিয়ে কোনো রকমে এসেছি। স্থানীয় এমপি ইঞ্জি. মঈনুল ইসলাম খান শান্তর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ গোলাম সামদানী বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কারের চেষ্টা করব।”