লেখকঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
বাঙালি গ্লামার কি বিশ্ব সেরা? বাঙালি মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের আই-কিউ কি বিশ্ব সেরা, বাঙালি বিশ্বাস ঘাতকতা কি বিশ্বসেরা, বাঙালি মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা কি বিশ্ব সেরা? বাঙালি আহাম্মক রা বিশ্ব সেরা আহাম্মক?
বাঙালি সাড়ে সাত হাজার বছরের প্রোথিত শিকড়ের জাতি ! তারা কিন্তু আর্য অনার্য সংঘাতে পরাজিত হয়ে এই ভু খন্ডে বসতি গেড়েছিলেন! সংঘাত আর বিতাড়ন আজ ও তাদের পিছু ছাড়ে নাই! তারমধ্যে বাগড়া বাঁধিয়েছে “ধর্ম” নামের অদৃশ্য বিশ্বাস! বাঙালি জাতি ছিলো এক মোর্চা, একশক্তি! ধর্ম মানুষের শেষ আশ্রয় স্হল যখন সে নিজের পর বিশ্বাস হারায়ে অতি ইন্দ্রিয় কিছু আকড়ে ধরে বাঁচতে চায়! লক্ষ্য করেছেন ঝড় এলে মানুষ দিকবিদিকশুন্য হয়ে ছুটোছুটি করে আজান উলু ধ্বনি কুরবানী পাঁঠাবলি মান্নত করে! ঝড় প্লাবন ওলাওঠা করোনা মহামারী চলে গেলে মানুষ আবার শক্তিধারী হয়ে ভূমিদস্যুতায় মাতে, হিংসা বিদ্বেষ অহংকার নিয়ে মাঠে নামে!
গ্রীক দার্শনিক “গোখলে” বলেছিলেন, “বাঙালি যা আজ ভাবে সারা ভারতের শত জাতির বাস তারা তা ভাবে এক সপ্তাহ পরে! এম প্রখর সূর্য রশ্মি মস্তিষ্ক দেখেছিলেন সেই পাশ্চাত্য পন্ডিত, কিন্তু তিনি দেখেন নাই সূক্ষ্ম ভাবে কত অংশ তার মধ্যে “বিশ্ব আহাম্মক”!
এই বিশাল জাতিকে তাই ইংরেজ রা একসাথে না রেখে “রেডক্লিফ ম্যাপ করলেন দ্বিখণ্ডিত করে, কিছু ভারতের সাথে রেখে কিছু পাকিস্তান নামক ২২ শো মাইল দূরে নতুন রাষ্ট্রের লেজের সাথে সংযুক্ত করে দেয়া হয়! ধর্ম নেশাগ্রস্ত মুসলমানদের নার্ভ স্টাডি করে তাদের ভিতর অনেক ভাগাভাগি করে বিজ্ঞান দর্শন ইতিহাস ভুগোল বিহীন শিক্ষা ব্যবস্হা করে দেয় যারা আজীবন অনাগ্রসর জাতি হিসেবে বেঁচে থাকবে! “লর্ড মেকলে” তার ভাষনে বলেছিলেন ” I studied India, we would never conquer this country unless break the backbone of the Indian nation, এ ভাষন স্বামী বিবেকানন্দের বই Saving Humanity পৃষ্ঠা ১৬৯/১৭০ বর্নিত আছে! এই পরিকল্পনায় প্রায় ৩৮ কোটি টাকা পকেট থেকে দিয়ে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার ব্যবস্হা প্রতিষ্ঠা করে ভারতের দেওবন্দে, সম্ভবতঃ ১৮৬৬ সালে, মাওলানা কাসেম সাহেবকে মোটিভেট করে যেখানে শতবছরের বেশী ইংরেজ প্রিন্সিপাল নিয়োগ থাকতো! উদ্দেশ্য ধর্ম ছাড়া বিশ্ব জগত বিজ্ঞান তাদের জ্ঞানের বাইরে থাকবে, ধর্ম বিষম্য সৃষ্টি হবে, নামে ভারতীয় থাকবে কিন্ত নিজেদের আলাদা জাতি ভাববে! সেই পলিসি “David and rule! (জাতিকে দ্বিখণ্ডিত করো এবং শাসন করো)।
বাংলাদেশে কোন একজন শাসক ” কওমি মাদার” খেতাবে ভুষিত হলেন কিন্তু মাওলানা সফি সাহেবের সাথে যে কথা ছিলো, “ইতিহাস ভূগোল বিজ্ঞান সংযুক্ত করা”” , তিনি ইন্তেকাল করলে, তা পরবর্তী তে “মাওলানা বাবু নগরীকে” Execute করতে যথেষ্ট প্রেসার দেয়া হলো না কওমি ভোট হারাবার ভয়ে অথচ দারুন একটা শিক্ষা ব্যবস্হা আলীয়া মাদ্রাসা থেকে ও অতিসুন্দর হতে পারতো!
এখন আর আমরা বাঙালি নই “বাঙলা দেশি জাতি”,
জাতীয়তাবাদ গুলিয়ে দিয়েছে নাগরিকত্বের পেয়ালায়! বিশ্বে ৪৩০০ ধর্ম যেমন আছে তেমনি বিশ্বে প্রায় ৮ বিলিয়ন জাতি আছে! যেমন পাঞ্জাবি, বেলুচ, ইংরেজ তাদের নিজস্ব ভাষা আছে কৃষ্টি সংস্কৃতি আছে নাগরিক হিসেবে তারা পাকিস্তানি বা বৃটিশ! তাদের মত আমাদের জাতীয়তাবাদ নাই! একজন সামরিক শাসক বাঙালি জাতি শক্তিকে অবদমিত করতে নাগরিকত্ব কে জাতীয়তাবাদ করে দিয়ে গেছেন সূক্ষ্ম কারচুপির আশ্রয় নিয়ে যা মোটা মাথায় ঢুকানো বা বুঝানো কষ্ট ! সে যাক
প্রিয় পাঠক, আমাদের বাঙালি জ্ঞান ঐতিহ্য গ্লামার বিশ্বে মুখেমুখে! বিশ্বের সেরা গ্লামার যেমন মারলিন মনোরা তেমনি বাঙালি মেয়ে ” সুচিত্রা সেন”! বলিউড অভিনেত্রী গ্লামার কুইন মাধুরি দীক্ষিত বলেছেন, “আমি সুচিত্রা সেনের ” “আধি” ছবিটা ৫০ বারের বেশি দেখেছি! আমি শুটিং সেরে প্যাকআপ হলে, হোটেলে ফিরতাম, ঘিরে ধরতো একঝাঁক সাংবাদিক! আমাকে বলতেন তারা, “আপনাকে ভারত গ্লামার ” সুচিত্রা সেনের মত লাগছে!”
আমি নির্ভয়ে আমার কেরিয়ার চিন্তা না করে স্পষ্ট ভাবে মিডিয়ার সামনে বলতাম যা সারা বিশ্ব দেখবে,” কোথায় বাঙালি গ্লামার কুইন সুচিত্রা সেন, কোথায় বোম্বের মাধুরি দীক্ষিত!”
বাঙালির ঐতিহ্য ধারক বাহক যে ক্ষুদ্র অংশ ঝান্ডা উঁচু করে বাংলাদেশ নামক বঙ্গোপসাগর অববাহিকায় মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে ছিলো ২০২৪ সালে তার পালক উপড়ে ডানা কেটে ছেঁটে উড়তে দেয়া পাখীর মত বাঙালি জাতি কে পঙ্গু করে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলা হয়েছে যা বুঝবে আগামী প্রজন্ম যখন তারা কেউ হবে প্রীতিলতা সূর্যসেন ক্ষুদিরাম ফকির মজনু শাহ হাজী শরীয়ত উল্ল্যাহ তিতুমীর — লক্ষ লক্ষ জীবন দিয়ে হয়তো দুইশো বছর পর কোন শেরেবাংলা সোহরাওয়ার্দী ভাসানী তর্কবাগীশ মুজিব জন্ম নিবে, ফিরিয়ে আনবে বাঙালি জাতীয়তাবাদ!
জন্ম নেবে “বাঙালী গ্লামার কুইন” সুচিত্রা শবনম শাবানা কবরী ববিতা, আবার ‘মাধুরির দীক্ষিতের” মত ‘বাঙালি গ্লামার’ প্রশংসা করবে কোন আদ্রে হেপবার্ন, সোফিয়া লোরেন, গ্রীক প্রেম দেবি আফ্রোদিতি, ইরানি বিউটি কুইন মারজান নিশাত বা সারাহ বয়াত !
ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালোবাসেন।