খুলনা ব্যুরো:
খুলনা নগরীর টুটপাড়া এলাকার দারোগাপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি ম্যাগাজিন, আট রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় প্রাণঘাতী অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই পরিবারের তিন সদস্যকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরীর মহিউদ্দিন সড়কের একটি দোতলা ভবনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
থানা হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা হলেন—খান কুব্বাত আলী, তাঁর স্ত্রী শামসুন নাহার এবং তাঁদের ছেলে কেএম আবিদ হাসান। তাঁরা ওই ভবনের দোতলার ভাড়াটিয়া।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে টুটপাড়া এলাকায় তেরখাদা উপজেলার দুলু শেখের ছেলে মাসুদ শেখ নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। দিনের আলোতে ঘটে যাওয়া এই গুলির ঘটনার পরপরই রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে খুলনা থানা পুলিশ। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য কোনো সূত্র না মিললেও, পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিকেলবেলা মহিউদ্দিন সড়কে কেএম ইমতিয়াজ আলীর মালিকানাধীন বাড়িটির দোতলায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, খান কুব্বাত আলীর বাসায় ঢুকেই ডাইনিং রুমের একটি চেয়ারের ওপর প্রকাশ্যে একটি পিস্তল দেখতে পান অভিযান পরিচালনাকারী দলের সদস্যরা। এর পর পুরো ঘরজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে বাসা থেকে মোট ৩টি বিদেশি পিস্তল, ৬টি ম্যাগাজিন ও ৮ রাউন্ড তাজা গুলি জব্দ করা হয়। প্রথম দফা অভিযানের পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সন্ধ্যার দিকে একই বাসায় আবারও তল্লাশি চালানো হয়। দ্বিতীয় দফার এ তল্লাশিতে দুটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাপাতি এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আরও বেশ কয়েকটি ধারালো ও অত্যন্ত বিপজ্জনক অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খুলনা থানার কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, সকালে গুলিবিদ্ধ হওয়া মাসুদ শেখের ঘটনার সূত্র ধরেই এই বিশাল অস্ত্রভান্ডারের সন্ধান পাওয়া গেছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের সঙ্গে মাসুদ শেখকে গুলি করার ঘটনার কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আবাসিক এলাকায় এতো বিপুল পরিমাণ আধুনিক ও দেশীয় অস্ত্রের মজুদ কেন করা হয়েছিল, এসব অস্ত্র কোথা থেকে এবং কাদের মাধ্যমে আনা হয়েছে, কিংবা নিকট ভবিষ্যতে বড় কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আটক তিনজনকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।এদিকে, জনবহুল আবাসিক এলাকায় একটি সাধারণ পরিবারের বাসা থেকে বিদেশি পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রের এমন বড় চালানের খবর ছড়িয়ে পড়লে গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্কের পাশাপাশি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনার পর থেকেই টুটপাড়া ও দারোগাপাড়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শেষে উদ্ধার করা অবৈধ অস্ত্রের বিষয়ে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার নেপথ্যে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।