মোঃ আবু সাঈদ, স্টাফ রিপোর্টার
পাওনা টাকা পরিশোধের চেক দিয়ে প্রতারণার (চেক ডিজঅনার) মামলায় খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একইসঙ্গে পলাতক ওই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই, ২০২৬) খুলনার যুগ্ম দায়রা জজ, ৩য় আদালতের বিচারক মো. বুলবুল আহমেদ এই রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম তাকিয়া সুলতানা। তিনি বটিয়াঘাটা থানাধীন ৫৯ নং কৈয়া গরীবুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা এবং জি এম মুশফিকুর রহমানের মেয়ে।
আদালতের রায় ও সাজা
আদালতের রায়ে ‘দ্য নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস্ অ্যাক্ট, ১৮৮১’-এর ১৩৮ ধারায় আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামি তাকিয়া সুলতানাকে ০২ (দুই) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে চেকের সমপরিমাণ অর্থ অর্থাৎ ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। জরিমানার এই সম্পূর্ণ টাকা মামলার বাদী পাবেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলা চলাকালীন সময় থেকে আসামি পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা (গ্রেপ্তারি পরোয়ানা) জারি করেছেন। আসামি যেদিন গ্রেপ্তার হবেন বা আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, সেদিন থেকেই তার সাজার মেয়াদ শুরু হবে।
মামলার বিবরণ
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, আসামি তাকিয়া সুলতানা মামলার বাদী রেহেনা বেগমের কাছ থেকে ১৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ধার হিসেবে গ্রহণ করেন। ওই পাওনা টাকা পরিশোধের উদ্দেশ্যে আসামি গত ২১ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে বাদীকে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, বটিয়াঘাটা শাখার নিজ হিসাব নম্বরের ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার একটি চেক প্রদান করেন।
ওই দিনই বাদী চেকটি নগদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় তা ডিজঅনার (প্রত্যাখ্যাত) হয়। পরবর্তীতে পাওনা টাকা দাবি করে বাদী গত ২২ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে আইনজীবীর মাধ্যমে আসামিকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশ পাওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করায় বাদী রেহেনা বেগম গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে আদালতে এই মামলা (দায়রা মামলা নম্বরঃ ৮৭৭/২০২৫) দায়ের করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এ.পি.পি.) অ্যাডভোকেট সানোয়ারা পারভীন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট বেগম আক্তার জাহান রুকু। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এই রায় প্রদান করেন।