• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
কবিতাঃ দেবী দুর্গার আগমন পাঁচবিবিতে সাঁওতাল জাতির অস্তিত্ব রক্ষায় করণীয় শীর্ষক কর্মশালা ও আলোচনা সভা আবারও কি নৌযান আর মানুষের কোলাহলে মুখর হবে নেত্রকোনার প্রাণ মগড়া নদী? ছোটগল্পঃ আনন্দিতার খোলাচিঠি জবির ছয় বাসে ওয়াই-ফাই, একসঙ্গে যুক্ত হতে পারবে ৩২ জন এমপি জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে লেকের মশা নিধনে মাঠে নামল বিশেষ দল ফরিদপুর থানায় সাপ্তাহিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ফরিদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় যুবক গ্রেফতার প্রেম-বিয়ে ও পুলিশ পরিচয়ের পর যৌতুক মামলায় রাণীশংকৈলে গ্রেপ্তার নীরব বেনাপোলে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ গড়তে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ, ৩ মাসে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ

জগন্নাথপুরে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের অপসারণ চেয়ে এলাকাবাসীর স্মারকলিপি প্রদান

Reporter Name / ২০২ Time View
Update : শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

 

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে হলিয়ারপাড়া জামেয়া কাদেরিয়া সুন্নিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মঈনুল ইসলাম পারভেজের অপসারণ চেয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২ টায় জগন্নাথপুর উপজেলার ৩ নং মীরপুর ইউনিয়নের হলিয়ারপাড়া গ্রামের সর্বস্তরের জনসাধারণ উপস্থিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ বরকত উল্লাহ বরাবরে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, ইতোপূর্বে একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মঈনুল ইসলাম পারভেজের এমপিও স্থগিত হলেও তিনি এখনও দায়িত্ব পালন করছেন। বছরের পর বছর তিনি এক সাথে দুই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করে এমপিও নীতিমালা পরিপন্থী ও সরকারি কর্মচারী বিধিমালা পরিপন্থী কাজ করছেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে কর্মরত থেকে বেতন-ভাতা নিলেও মাদ্রাসার চাকরির তথ্য গোপন করে মুসলিম বিবাহ তালাক নিবন্ধক ও নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত। কাজীপদে অবৈধ ভাবে, তথ্য গোপন করে নিযোগ লাভের পর তৎকালীন এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত হয়। কাজীর পদটি টিকিয়ে রাখার জন্য মোঃ মঈনুল ইসলাম পারভেজ মাদ্রাসার প্রভাষক পদ থেকে ২০০৪ সালের ৯ মে তারিখে পদত্যাগ করেন। ২০০৪ সালের ২৮ মে তারিখে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয় থেকে মোঃ মঈনুল ইসলামকে জানানো হয়, যেহেতু তিনি জামেয়া কে.এস, মাদ্রাসার প্রভাষক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সেহেতু তাকে কাজীর পদে থাকতে কোন অসুবিধা নাই। মাদ্রাসায় মোঃ মঈনুল ইসলাম পারভেজ এবং কাজী পদে তিনি মোঃ মঈনুল ইসলাম নাম ব্যবহার করছেন। অর্থ্যাৎ একই ব্যক্তির দুই নাম দুই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। এছাড়া তার জালিয়াতি ও নানা অনিয়মে ডুবতে বসেছে এলাকা মাদ্রাসা। তার কারণে বর্তমানে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নাই বললেই চলে। একই এলাকার নাম মাত্র চলা অন্য মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দিয়ে হলিয়ারপাড়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী দেখিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এক প্রকার জালিয়াতি করেই চলছে মাদ্রাসার কার্যক্রম। ইতোপূর্বে অধ্যক্ষ মোঃ মঈনুল ইসলাম পারভেজ (ইনডেক্স-S320858) এর বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তার এমপিও স্থগিত করা হয়। ইতোপূর্বে অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির মামলায় অধ্যক্ষ ১৬ দিনের কারাবরণ করেন।একজন কাজী হিসেবে তিনি ভূয়া কাবিননামা তৈরি জাল-জালিয়াতি, বাল্য বিবাহ, দেনমোহরের টাকা কম-বেশি করা, বর ও কনে পক্ষকে নানান কায়দায় প্ররোচিত করে বিবাহ দেওয়া কিংবা বিচ্ছেদকরণ কর্মকান্ডে জড়িত। তার বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর পৌর এলাকার কেশবপুর গ্রামের শাহনাজ পারভিন লিসা নামের এক মহিলার কাবিননামায় তার নাম মুছে মোসাম্মৎ সাজেদা বেগম নামের অন্য মহিলার নাম বসিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে বিদেশ গমণে সহায়তার অভিযোগে শাহনাজ পারভীন লিসা বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি আদালতে সিআর মামলা নং-৩৮/২০২৩) দায়ের করেন। নারীদের সঙ্গে তার অনৈতিক আচরণের অভিযোগে শোকজ করে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ জালিয়াতি করা নিয়ে ও ইতিপূর্বে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর তাকে শোকজ করে। দুই দুই বার জালিয়াতির অভিযোগে তাকে শোকজ করা হলেও বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ট সহচর সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট) আসনের সাংসদ মাওলানা মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরী (ফুলতলি হুজুরের ছেলে) এর (নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন অধ্যক্ষ মঈনুল ইসলাম পারভেজ) ঘনিষ্ট ব্যক্তি হওয়ায় লবিং করে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।” একাধিক জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত এবং স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক এমপিও স্থগিত হওয়া মোঃ মঈনুল ইসলাম পারভেজকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসা সমূহের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের চাকরির শর্তাবলি সংক্রান্ত প্রবিধান-২০২৩ (সংশোধিত) বিধি অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করে একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মান বাঁচানোর আকুল জানান তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd